২০০৫ সালের ডিসেম্বরে এনজিও কর্মী হিসেবে আফগানিস্তানে চাকরি করতে গিয়েছিলেন যশোরের নূর ইসলাম। সেখানে তিনি তালেবানদের কাছে ৮৪ দিন বন্দী থেকে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়েন। নূরের সঙ্গে ঘটে যাওয়া কাহিনি অবলম্বনেই নির্মিত হয়েছে রেদওয়ান রনির সিনেমা ‘দম’।
শনিবার সন্ধ্যায় এই সিনেমার সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হন আফরান নিশো, পূজা চেরী, নির্মাতা রেদওয়ান রনি ও প্রযোজক শাহরিয়ার শাকিল। তাদের সঙ্গে বিশেষ চমক হিসেবে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হন নূর নামের ওই ব্যক্তি!
মূলত শূন্য দশকের মাঝামাঝিতে তার সঙ্গে ঘটে যাওয়া বাস্তব কাহিনিই ‘দম’ এর মাধ্যমে সিনেমার পর্দায় ফুটিয়ে তুলেছেন আফরান নিশো!
সিনেমা সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, যশোরের নূর ইসলাম সিনেমাটি দেখেছেন উত্তরার সেন্টার পয়েন্ট-এর স্টার সিনেপ্লেক্সে। শনিবার (৪ এপ্রিল) বসুন্ধরার স্টার সিনেপ্লেক্সে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সবাইকে বাস্তবের নূরের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়া হয়।
এ সময় নিশো নূরের গল্প বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি সরাসরি জানান, তিনিও রক্ত মাংসে গড়া মানুষ। এরপরই কান্না শুরু করেন এই অভিনেতা।
নিশো আরও জানান, চরিত্রের প্রয়োজনে তিনি নূরের গ্রামে গিয়েছিলেন এবং তার বাবা ও ভাইয়ের কাছ থেকে গল্পও শুনেছেন। তার বাবা হোক বা ভাই হোক সবাই মানুষ। তিনি নূরের জীবন গভীরভাবে উপলব্ধি করতে পারেছেন।
নিশো জানান, কীভাবে এই সিনেমার গল্পটি তাকে আকৃষ্ট করেছে এবং চরিত্রের প্রয়োজনে তিনি কী কী করেছেন। পরিশেষে দর্শকদের উদ্দেশে আফরান নিশো আহ্বান জানান তারা যেন সিনেমাটি দেখেন এবং নূরের জীবনের বাস্তব লড়াইটা উপলব্ধি করেন।
সত্য ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত ‘দম’ সিনেমাটি নিয়ে দর্শকদের মাঝেও ব্যাপক উন্মাদনা দেখা যাচ্ছে। সামাজিক মাধ্যমে নেটিজেনদের মন্তব্য থেকে বোঝা যায় নিশোর এই ভিন্নধর্মী চরিত্র দেখার জন্য তারা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করেছেন। সিনেমার নির্মাতা ও প্রযোজনা সংস্থা চরকি এবং আলফা আইয়ের রেদওয়ান রনি ও শাহরিয়ার শাকিল গল্পটি পর্দায় নিখুঁতভাবে তুলে ধরার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন।
অন্যদিকে এই সিনেমায় নিশোর বিপরীতে নায়িকা হিসেবে পূজা চেরীর উপস্থিতিও দর্শকদের কৌতূহল আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।



