রাজধানীর একটি সিনেপ্লেক্সে ‘প্রিন্স’ সিনেমার বিশেষ প্রদর্শনী ঘিরে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওকে কেন্দ্র করে যখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে আলোচনা-সমালোচনা, ঠিক তখনই বিষয়টি নিয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করলেন কলকাতার অভিনেত্রী জ্যোতির্ময়ী কুণ্ডু।
সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়া কিছু ভিডিওতে দেখা যায়, অনুষ্ঠানে অভিনেতা শাকিব খান-এর পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন ‘প্রিন্স’-এর দুই নায়িকা জ্যোতির্ময়ী ও তাসনিয়া ফারিণ। সেখানে শাকিবের কিছু আচরণ নিয়ে নেটমাধ্যমে তৈরি হয় বিতর্ক, এমনকি ‘অস্বস্তি’ ও ‘ব্যাড টাচ’-এর অভিযোগও তুলেছেন কেউ কেউ।
তবে এসব অভিযোগকে সরাসরি নাকচ করে জ্যোতির্ময়ী বলেন, “এই বিষয়টা খুব বাজেভাবে ছড়ানো হচ্ছে। ওইখানে প্রচণ্ড ভিড় ছিলো, আমরা ঠিকমতো দাঁড়ানোর জায়গা পাচ্ছিলাম না। তখন মিডিয়া থেকেই বলা হয়, শাকিব খানের সঙ্গে আমার আর ফারিণের ছবি তুলতে। সেই মুহূর্তে তিনি আমাদের গার্ড করেছিলেন।”
তিনি আরও বলেন, ঘটনাটিকে যেভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে, তা বাস্তবতার সঙ্গে মিলছে না। “মিডিয়ার সামনে যেভাবে বিষয়টি অতিরঞ্জিত করা হচ্ছে, সেটা খুবই হতাশাজনক।” মন্তব্য করেন এই অভিনেত্রী।
বিতর্কের প্রসঙ্গে প্রশ্ন তুলে জ্যোতির্ময়ী বলেন, “কেউ যদি ইচ্ছাকৃতভাবে কিছু করতেই চাইতো, তাহলে কি সে তিনশোটা ক্যামেরার সামনে সেটা করবে? আমার মনে হয়, বিষয়টি বাড়িয়ে বলা হচ্ছে।”
নায়কের আচরণে তিনি অস্বস্তি বোধ করেছিলেন কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে জ্যোতির্ময়ী স্পষ্টভাবে জানান, “অস্বস্তির তো প্রশ্নই আসে না। এত ভিড় ছিলো যে দাঁড়ানোই কঠিন ছিলো। কো-আর্টিস্ট হিসেবে একজন আরেকজনকে প্রটেক্ট করাটাই স্বাভাবিক।”
‘ব্যাড টাচ’ প্রসঙ্গেও নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন তিনি।
“তিনশোটা ক্যামেরার সামনে কেউ আমাকে ব্যাড টাচ করবে, আর সেটা আমি সহ্য করবো? এটা হয় কখনো? এটা কখনোই ব্যাড টাচ কিংবা খারাপ ইনটেনশন ছিলো না। নরমাল একটা বিষয়কে যারা বাজেভাবে ছড়াচ্ছে, সেটাও যদি কোনো সুস্থ স্বাভাবিক মানুষ দেখে তারা বুঝতে পারবে কী টাচ ছিলো!” বলছিলেন ‘প্রিন্স’-এ শাকিবের সহঅভিনেত্রী জ্যোতির্ময়ী।
তিনি বলেন,“আমি দেখেছি, অনেকে ‘ব্যাড টাচ’-এর কথাও বলছেন। আচ্ছা, আমি কি বাচ্চা? আমাকে যদি বেড টাচ করা হতো, আমি কি প্রতিবাদ করতাম না?”
শাকিব খানের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা নিয়েও ইতিবাচক মন্তব্য করেন এই অভিনেত্রী। তার ভাষায়,“বিগত সময়ের সাক্ষাৎকারেও বলেছি, এখনো বলছি- উনার (শাকিব খান) সাথে আমার কাজের অভিজ্ঞতা ভীষণ ভালো। কিন্তু খারাপটা তখনই লাগে, যখন কিছু মানুষ মানুষ এসে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করে দর্শকের কাছে। ‘প্রিন্স’ করতে গিয়ে উনি আমাকে যেভাবে সমর্থন করেছেন, সেটা ভোলার নয়। এখন আমাকে জড়িয়ে তাকে যেভাবে বলা হচ্ছে, একটা নরমাল বিষয়কে বড় করে দেখানো হচ্ছে যে জিনিসের কোনো অস্তিত্বই নেই; এটা দুঃখজনক।”
সবশেষে যারা বিষয়টিকে ভিন্নভাবে ছড়িয়ে দিচ্ছেন, তাদের উদ্দেশে জ্যোতির্ময়ী বলেন, “যারা নরমাল বিষয়টিকে নানা রঙ দিয়ে দর্শকের কাছে ছড়াচ্ছেন, তারা জেনে বুঝেই কাজটি করছেন। এখন তাদের তো আর আটকানো যাবে না, এটা আমার হাতে নেই। শুধু এটুকু বলতে পারি, এগুলো করবেন না দয়া করে, এটার কোনো অস্তিত্ব নেই। এতো মশলাদার গল্পের দরকার নেই জীবনে, একটু নিজেদের মতো করে সবাইকে থাকতে দিন।”



