ফিলিস্তিনিদের মৃত্যুদণ্ড দিতে ইসরায়েলের পার্লামেন্টে নতুন আইন পাস – DesheBideshe

ফিলিস্তিনিদের মৃত্যুদণ্ড দিতে ইসরায়েলের পার্লামেন্টে নতুন আইন পাস – DesheBideshe

ফিলিস্তিনিদের মৃত্যুদণ্ড দিতে ইসরায়েলের পার্লামেন্টে নতুন আইন পাস – DesheBideshe

তেল আবিব, ৩১ মার্চ – প্রাণঘাতী হামলার দায়ে সামরিক আদালতে দোষী সাব্যস্ত ফিলিস্তিনিদের জন্য মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে একটি নতুন আইন পাস করেছে ইসরায়েলের পার্লামেন্ট। এই আইনে নির্ধারিত শাস্তি হিসেবে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার কথা বলা হয়েছে।

সম্প্রতি এই পদক্ষেপের মাধ্যমে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তাঁর ডানপন্থি মিত্রদের দেওয়া একটি নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণ করলেন। আইনটি কেবল সেইসব দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে যাদের হামলার উদ্দেশ্য ছিল ইসরায়েলের অস্তিত্ব নিশ্চিহ্ন করা।

সমালোচকরা দাবি করছেন, এই আইনের ফলে একই ধরনের অপরাধে অভিযুক্ত ইহুদি ইসরায়েলিরা মৃত্যুদণ্ড থেকে রেহাই পেলেও ফিলিস্তিনিদের সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া হবে। এর ফলে আইনটির প্রয়োগ ইসরায়েলের ২০ শতাংশ আরব সংখ্যালঘুর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

নতুন এই বিধানে শাস্তি ঘোষণার ৯০ দিনের মধ্যে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কথা উল্লেখ রয়েছে। বিলম্বে শাস্তির কিছু সুযোগ থাকলেও ক্ষমার কোনো বিধান রাখা হয়নি।

১৯৫৪ সালে ইসরায়েল হত্যাকাণ্ডের জন্য মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার বিধান বাতিল করেছিল। ১৯৬২ সালে অ্যাডলফ আইখম্যান নামের এক নাৎসি পরিকল্পনাকারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পর দেশটিতে আর কাউকে বেসামরিক আদালতে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়নি।

ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থি জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গভির এই আইন প্রণয়নের অন্যতম রূপকার। পার্লামেন্টের ১২০ জন সদস্যের মধ্যে ৬২ জনের সমর্থন পেয়ে প্রস্তাবিত আইনটি পাস হয়।

ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস এই আইনটিকে আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করে এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। অন্যদিকে হামাস এবং ইসলামিক জিহাদের মতো গোষ্ঠীগুলো এই আইনের প্রতিবাদে ফিলিস্তিনিদের প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছে।

আন্তর্জাতিক মহলেও এই আইনের ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে। জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালি ও ব্রিটেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা আইনটিকে বৈষম্যমূলক এবং ইসরায়েলের গণতান্ত্রিক নীতির পরিপন্থী বলে অভিহিত করেছেন।

জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরাও আইনের সংজ্ঞাগত অস্পষ্টতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

এনএন/ ৩১ মার্চ ২০২৬



Scroll to Top