
লন্ডন, ৩০ মার্চ – ফুটবল খেলাকে আরও স্বচ্ছ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া নিখুঁত করার লক্ষ্যে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি বা ভিএআর প্রযুক্তির প্রচলন করা হয়েছিল। তবে ক্লাব ফুটবলের অন্যতম জনপ্রিয় প্রতিযোগিতা ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে এই প্রযুক্তি নিয়ে সমালোচনা থামছেই না। নানা বিতর্কের জন্ম দেওয়া ভিএআর প্রযুক্তির বিপক্ষে নিজেদের অবস্থানের কথা জানিয়েছেন ইংলিশ ফুটবলের ৯১ শতাংশ দর্শক। ইংলিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে আট বছরেরও বেশি সময় ধরে ভিএআর প্রযুক্তি প্রয়োগের পর একটি বার্ষিক জরিপ চালিয়েছে ফুটবল সাপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন বা এফএসএ।
এই পদ্ধতিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিষয়টি নিয়ে ফুটবল দর্শকদের মাঝে ব্যাপক অসন্তুষ্টি রয়েছে বলে জরিপে উঠে এসেছে। সংস্থাটির পরিচালিত জরিপে অংশ নেন সাত হাজারের বেশি ফুটবল সমর্থক যাদের বেশিরভাগই মাঠে বসে খেলা দেখেন। জরিপে অংশ নেওয়া মাত্র দুই শতাংশ ফুটবল ভক্ত মনে করেন ভিএআর ফুটবলকে আরও উপভোগ্য করে তোলে। এছাড়া ৩ শতাংশ মানুষের মতে ভিএআর প্রযুক্তির কারণে তুলনামূলক ভালো অভিজ্ঞতা পাওয়া যায়। কিন্তু ৯১ শতাংশ মানুষই ভিএআরের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। এর মধ্যে সরাসরি ভিডিও প্রযুক্তি ছাড়া ম্যাচ দেখার পক্ষে মত দিয়েছেন ৮১ শতাংশ ফুটবল ভক্ত।
প্রিমিয়ার লিগের চলতি মৌসুমে ভিএআরের সিদ্ধান্ত ব্যাখ্যা করার জন্য রেফারিদের স্টেডিয়ামের ভেতরে যোগাযোগের ব্যবস্থা চালুর বিষয়টি পছন্দ করেছেন জরিপে অংশ নেওয়া অর্ধেকের বেশি মানুষ। তবে ভিএআর প্রোটোকলের অন্যান্য নতুন ঘোষিত সম্প্রসারণগুলো তারা অপছন্দ করার কথা জানিয়েছেন। কর্নার কিক দেওয়া হবে কিনা সেই বিষয়ে ভিএআরের সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত কি না এমন প্রশ্নে মাত্র ২১ শতাংশ মানুষ একমত হয়েছেন। এই প্রক্রিয়াটি আগামী বিশ্বকাপে পরীক্ষামূলকভাবে চালু হওয়ার কথা রয়েছে।
দ্বিতীয় হলুদ কার্ডের সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল কিনা তা যাচাই করার পরিকল্পনারও ব্যাপক বিরোধিতা করেছেন অধিকাংশ সমর্থক। ভিএআরের বিপক্ষে দর্শকদের এমন জোরালো অবস্থান খেলাটির সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীদের প্রভাবিত করবে কিনা তা এখন একটি বিতর্কের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। লিগ আয়োজকরা ভিএআর ব্যবহারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং খেলাটির সবচেয়ে বড় ক্লাবগুলোও এর পক্ষে রয়েছে। যদিও সম্প্রতি এ পদ্ধতির কার্যকারিতা নিয়ে দুই বছরের একটি পর্যালোচনার ঘোষণা দিয়েছে ফুটবলের আইন প্রণয়নকারী কর্তৃপক্ষ ইন্টারন্যাশনাল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বোর্ড বা ইফ্যাব। তবে পুরোপুরি ভিএআর বাতিলের কোনো ইঙ্গিত তারা দেয়নি।
ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান নির্বাহী মার্ক বালিংহাম ইফ্যাবের এই পর্যালোচনা প্রসঙ্গে জানান কীভাবে ভিএআরকে সর্বোত্তমভাবে ব্যবহার করা যায় এবং বড় সিদ্ধান্তগুলো সঠিকভাবে নেওয়ার পাশাপাশি খেলার গতি কমিয়ে না দেওয়ার মাঝে ভারসাম্য খোঁজার চেষ্টা চলছে। ভিএআরের বিপক্ষে অবস্থান নেওয়ার অন্যতম বড় কারণ হিসেবে সিদ্ধান্ত নিতে বিলম্ব হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। জরিপে অংশ নেওয়া ৯৬ শতাংশ মানুষ মনে করেন ভিএআর উপযুক্ত সময়ের মাঝে সমাধানে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়। এছাড়া ৯২ শতাংশ মানুষ একমত যে ভিএআর গোল উদযাপনের স্বতঃস্ফূর্ত আনন্দকে নষ্ট করে দেয়। তবে গোল বিল্ডআপের সময় অফসাইড শনাক্তে ভিএআর ব্যবহারের পক্ষে ৫৬ শতাংশ এবং সম্ভাব্য ফাউল যাচাইয়ে ৬০ শতাংশ মানুষ এর প্রয়োগ চেয়েছেন।
এস এম/ ৩০ মার্চ ২০২৬





