লন্ডনে হাজারো মানুষের বিক্ষোভ, উগ্র ডানপন্থার বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক মিছিল | চ্যানেল আই অনলাইন

লন্ডনে হাজারো মানুষের বিক্ষোভ, উগ্র ডানপন্থার বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক মিছিল | চ্যানেল আই অনলাইন

যুক্তরাজ্যের লন্ডনে শহরে উগ্র ডানপন্থার বিরুদ্ধে অবস্থান জানাতে হাজারো মানুষ রাস্তায় নেমেছেন। আয়োজকদের দাবি, এটি ব্রিটিশ ইতিহাসে এ ধরনের সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ।

সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।

শনিবার (২৮ মার্চ) রাজধানীর কেন্দ্রস্থলে আয়োজিত ‘টুগেদার অ্যালায়েন্স’ মিছিলে ট্রেড ইউনিয়ন, বর্ণবৈষম্যবিরোধী সংগঠন এবং মুসলিম প্রতিনিধিত্বকারী সংস্থাসহ প্রায় ৫০০টি সংগঠনের সমর্থন ছিল। বিভিন্ন বয়স ও শ্রেণির মানুষ এতে অংশ নেন। তারা হোয়াইটহল এলাকায় জড়ো হয়ে হাউজ অফ পারলামেন্টের কাছাকাছি অবস্থান নেন।

আয়োজকদের দাবি, প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ এই বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন। তবে মেট্রোপলিটন পুলিশ জানিয়েছে, অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা আনুমানিক ৫০ হাজার হতে পারে, যদিও জনসমাগম ছড়িয়ে থাকায় সঠিক সংখ্যা নির্ধারণ কঠিন ছিল।

টুগেদার অ্যালায়েন্সের চেয়ারম্যান কেভিন কোর্টনি বলেন, এই মিছিল মানুষকে এগিয়ে যাওয়ার আত্মবিশ্বাস জোগায়। বিক্ষোভস্থলে স্বল্পসংখ্যক পাল্টা বিক্ষোভকারীও উপস্থিত ছিল, যারা ইসরায়েলের পতাকা এবং ১৯৭৯-পূর্ব ইরানের রাজতান্ত্রিক পতাকা বহন করছিল।

ট্রেড ইউনিয়ন কর্মী আদম মুস বলেন, বর্ণবাদ ও ইসলামভীতি এখন মূলধারার রাজনীতিতে ঢুকে পড়েছে এবং তা সংসদ সদস্যদের মাধ্যমেও ছড়ানো হচ্ছে। তিনি বলেন, এই মিছিল নাইজেল ফারাজের নেতৃত্বাধীন রাজনীতির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য জরুরি।

এদিকে সাংবাদিক মিলেনা ভেসেলিনোভিচ জানান, বিক্ষোভকারীরা যুক্তরাজ্যে ঘৃণা ও বিভাজনের রাজনীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছেন। অ্যাক্টিভিস্ট ও লেখক হামজা আহসান বলেন, গত বছর টমি রবিনসন আয়োজিত একটি সমাবেশে বিপুল লোকসমাগম এবং সহিংসতার পর তিনি এই মিছিলে অংশ নিতে অনুপ্রাণিত হয়েছেন। তিনি বলেন, আমাদের দেখাতে হবে, সংখ্যাগরিষ্ঠ আমরা।

একই সঙ্গে তিনি জানান, শনিবারের মিছিলের পরিবেশ ছিল উৎসবমুখর, অনেকটা নটিং হিল কার্নিভালের মতো, যেখানে শিশু থেকে প্রবীণ সবাই অংশ নিয়েছে। জাদুঘরকর্মী শার্লট এলিস্টন বলেন, উগ্র ডানপন্থার ক্রমবর্ধমান প্রভাব তাকে উদ্বিগ্ন করে তুলছে।

বিক্ষোভে অংশ নেন কয়েকজন বামপন্থী রাজনীতিকও। স্বতন্ত্র এমপি জেরেমি করবিন বলেন, দেশের সমস্যার জন্য অভিবাসী বা শরণার্থীরা দায়ী নয়; বরং এর মূল কারণ করপোরেট ও ধনীদের পক্ষে তৈরি অর্থনৈতিক ব্যবস্থা। এমপি জারা সুলতানা বলেন, বিভাজন সৃষ্টিতে অর্থায়নকারী ধনীদের বিরুদ্ধেই ক্ষোভ থাকা উচিত।

এছাড়া জ্যাক পোলানস্কি, ডায়ান অ্যাবট এবং গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র অ্যান্ডি বার্নহ্যাম-ও এই বিক্ষোভে অংশ নেন। মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইউকে এই মিছিলকে ‘ঐতিহাসিক’ আখ্যা দিয়ে বলেছে, বিক্ষোভকারীরা এমন একটি সমাজব্যবস্থার আহ্বান জানিয়েছেন যেখানে মানবাধিকার, সহমর্মিতা ও মর্যাদা প্রাধান্য পাবে।

এদিকে ফিলিস্তিন সংহতি প্রচারণার ডাকা পৃথক একটি মিছিল হাইড পার্ক-এর কাছে একত্রিত হয়ে বিকালে মূল বিক্ষোভের সঙ্গে যুক্ত হয়। শনিবার নিউ স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডের বাইরে ফিলিস্তিনপন্থী সংগঠন প্যালেস্টাইন অ্যাকশনের সমর্থনে বিক্ষোভ করার সময় ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে নাইজেল ফারাজের নেতৃত্বাধীন রিফর্ম পার্টির জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির পাশাপাশি বর্ণবাদও বাড়ছে বলে মনে করা হচ্ছে। বর্ণবাদবিরোধী সংগঠন সতর্ক করে বলেছে, ব্রিটেনে উগ্র ডানপন্থা এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বড়, শক্তিশালী এবং আরও চরমপন্থী হয়ে উঠেছে।

Scroll to Top