
তেহরান, ২৫ মার্চ – গত সপ্তাহে এক বিমান হামলায় নিহত আলী লারিজানির স্থলাভিষিক্ত হিসেবে ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের বা এসএনএসসির নতুন প্রধান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মোহাম্মদ যুলঘাদর।
দেশটির অত্যন্ত সংবেদনশীল এই পদে দায়িত্ব গ্রহণের পর তাকে একটি জটিল নিরাপত্তা পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ক্রমবর্ধমান সামরিক চাপের পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ নানা চ্যালেঞ্জ সামাল দেওয়ার গুরুদায়িত্ব এখন তার কাঁধে অর্পিত হয়েছে।
মোহাম্মদ যুলঘাদরকে ইরানের একজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা ব্যক্তিত্ব হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তিনি ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস বা আইআরজিসির সাবেক কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া ২০২৩ সাল থেকে তিনি এক্সপেডিয়েন্সি কাউন্সিলের সচিব হিসেবেও কর্মরত ছিলেন। ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর গঠিত আইআরজিসির প্রথম প্রজন্মের সদস্য হিসেবে যুলঘাদর ঐতিহাসিক ইরান ও ইরাক যুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছিলেন।
দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি আট বছর আইআরজিসি জয়েন্ট স্টাফের প্রধান এবং আরও আট বছর ডেপুটি কমান্ডার ইন চিফ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সামরিক ও নিরাপত্তা ক্ষেত্রে একাধিক উচ্চ পদে অধিষ্ঠিত থাকার পাশাপাশি তিনি উচ্চ পর্যায়ের রাজনৈতিক ও বিচারিক পদেও নিজের দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তেহরানের বর্তমান পরিস্থিতিতে একজন অভিজ্ঞ রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা ব্যক্তিত্বের গভীর প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।
মোহাম্মদ যুলঘাদরের এই নিয়োগ মূলত আলী লারিজানির রেখে যাওয়া শূন্যতা পূরণের একটি বলিষ্ঠ পদক্ষেপ। তবে চলমান বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই গুরুদায়িত্ব পালন করা তার জন্য মোটেও সহজ হবে না বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
এ এম/ ২৫ মার্চ ২০২৬





