ইরান যুদ্ধের প্রভাবে যুদ্ধজনিত উৎপাদন ও সরবরাহ বিঘ্নের কারণে দীর্ঘমেয়াদি কিছু তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) চুক্তিতে ‘ফোর্স মেজার’ ঘোষণা করেছে কাতার এনার্জি।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) নেওয়া এ সিদ্ধান্তের আওতায় ইতালি, বেলজিয়াম, দক্ষিণ কোরিয়া ও চীনের ক্রেতারা রয়েছেন।
‘ফোর্স মেজার’ এমন একটি চুক্তিগত ধারা, যার মাধ্যমে অনাকাঙ্ক্ষিত ও নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা পরিস্থিতিতে চুক্তির বাধ্যবাধকতা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা যায়।
এর আগে কুয়েত ও বাহরাইনের কিছু জ্বালানি কোম্পানিও একই ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলা শুরুর পর থেকেই বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার অস্থির হয়ে উঠেছে। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল-গ্যাস স্থাপনাগুলো লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে, যা আন্তর্জাতিকভাবে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
এছাড়া, গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ ‘হরমুজ প্রণালী’ কার্যত বন্ধ করে দেওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। বিশ্বের মোট তেল ও এলএনজি সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়।
এই হামলা ও নৌপথ বন্ধের কারণে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
এর আগে কাতার এনার্জির প্রধান নির্বাহী সাদ আল কাবি জানান, কাতারের রাস লাফান গ্যাস স্থাপনায় ইরানের হামলায় দেশটির প্রায় ১৭ শতাংশ এলএনজি রপ্তানি সক্ষমতা নষ্ট হয়েছে। এতে বছরে আনুমানিক ২০ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হতে পারে এবং ইউরোপ ও এশিয়ায় সরবরাহ হুমকির মুখে পড়েছে।
তিনি আরও বলেন, কাতারের ১৪টি এলএনজি ট্রেনের মধ্যে দুটি এবং দুটি গ্যাস-টু-লিকুইডস (জিটিএল) স্থাপনার একটি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে বছরে প্রায় ১ কোটি ২৮ লাখ টন এলএনজি উৎপাদন ৩ থেকে ৫ বছরের জন্য বন্ধ থাকতে পারে।





