হংকং থেকে লন্ডনগামী ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে উড্ডয়নের কিছুক্ষণের মধ্যেই এক নারী যাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। এরপর প্রায় সাড়ে ১৩ ঘণ্টার পুরো যাত্রাজুড়ে তার মরদেহ বিমানের ভেতরেই রাখা হয়।
সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
রোববার (২২ মার্চ) ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের ফ্লাইট বিএ৩২-এ এই ঘটনা ঘটে। ফক্স নিউজের বরাতে জানা যায়, হংকং থেকে উড্ডয়নের প্রায় এক ঘণ্টা পর এয়ারবাস এ৩৫০-১০০০ উড়োজাহাজে থাকা ষাটোর্ধ্ব ওই নারী মারা যান।
ঘটনার পর পাইলটরা ফ্লাইটটি হংকংয়ে ফিরিয়ে না নিয়ে নির্ধারিত গন্তব্য লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দরের দিকেই যাত্রা অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত নেন। কারণ, বিমানে কোনো যাত্রীর মৃত্যু সাধারণত জরুরি চিকিৎসা পরিস্থিতি হিসেবে বিবেচিত হয় না।
প্রাথমিকভাবে মরদেহটি বিমানের টয়লেটে রাখার কথা ভাবা হলেও তা বাতিল করা হয়। পরে মরদেহটি মোড়ানো অবস্থায় বিমানের পেছনের গ্যালিতে স্থানান্তর করা হয়।
একটি সূত্র জানায়, সেই নারীর পরিবারের সদস্যরা ভীষণ ভেঙে পড়েছিলেন, ক্রু সদস্যরাও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন। অনেকেই হংকংয়ে ফিরে যেতে চেয়েছিলেন। তবে বাস্তবতা হলো যাত্রী ইতোমধ্যেই মারা গেলে সেটি জরুরি পরিস্থিতি হিসেবে ধরা হয় না।
তবে ক্রুরা যে গ্যালিতে মরদেহটি রাখা হয়েছিল, সেখানে মেঝে উত্তপ্ত থাকে—এ বিষয়টি খেয়াল করেননি। এতে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে এবং বিমানের পেছনের অংশে তা ছড়িয়ে যায় বলে অভিযোগ উঠেছে।
লন্ডনের কাছে পৌঁছানোর সময় বিমানের ৩৩১ জন যাত্রী ও ক্রুর অনেকেই ওই অংশ থেকে দুর্গন্ধ আসার কথা জানান। অবতরণের পর পুলিশ বিমানে উঠে তদন্ত শুরু করে এবং প্রায় ৪৫ মিনিট যাত্রীদের নিজ নিজ আসনে বসে থাকতে বলা হয়।
এ ঘটনায় ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ জানায়, সব ধরনের প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে। সংস্থাটি এক বিবৃতিতে জানায়, দুঃখজনকভাবে একজন যাত্রী বিমানে মারা গেছেন। এ কঠিন সময়ে আমরা তার পরিবার ও স্বজনদের প্রতি সমবেদনা জানাই। আমাদের ক্রুদেরও সহায়তা করা হচ্ছে এবং সব প্রক্রিয়া সঠিকভাবে অনুসরণ করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন সংস্থা (আইএটিএ)-এর নির্দেশনা অনুযায়ী, উড়োজাহাজে কোনো যাত্রী মারা গেলে সাধারণত মরদেহটি বডি ব্যাগে রাখা হয় বা গলা পর্যন্ত চাদর দিয়ে ঢেকে রাখা হয়। সুযোগ থাকলে মরদেহকে বিমানের কম দৃশ্যমান স্থানে, যেমন খালি আসন বা অন্য অংশে সরিয়ে নেওয়া হয়। তবে ফ্লাইট পূর্ণ থাকলে মরদেহটি তার আসনেই রাখা হতে পারে।
২০১৩ সালে নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অব মেডিসিনে প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়েছে, বিমানে চিকিৎসাজনিত জরুরি অবস্থার মধ্যে মৃত্যুর ঘটনা তুলনামূলকভাবে বিরল—মাত্র শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ ক্ষেত্রে মৃত্যু ঘটে।





