
ঢাকা, ২১ মার্চ – সারা দেশের কারাগারগুলোতে ঈদের জামাতে অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদ্যাপন করেছেন হাজতি ও বন্দিরা। কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারসহ বিভিন্ন কারাগারে উৎসবমুখর পরিবেশে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।
কেরানীগঞ্জের বিশেষ কারাগারে ঈদের জামাতে অংশ নেন কারাবন্দি আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও শীর্ষ কর্মকর্তারা। জামাত শেষে তারা একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি ও কুশল বিনিময় করেন। তবে জুলাই ছাত্র-জনতা হত্যা মামলায় রাজসাক্ষী হওয়া পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনকে সবাই এড়িয়ে চলেন। সাবেক মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের কেউই তার সঙ্গে কোলাকুলি বা কথা বলেননি।
কারাগার সূত্র জানায়, সকাল সাড়ে আটটায় কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে বিশেষ কারাগারে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান সংশ্লিষ্ট মামলায় বন্দি থাকা প্রায় ১২৩ জন সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও আমলা অংশ নেন। রাজসাক্ষী আব্দুল্লাহ আল মামুন সম্পূর্ণ আলাদা অবস্থানে ছিলেন। তার নিরাপত্তায় বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল।
কেন্দ্রীয় কারাগারের জেল সুপার ফারুক আহমেদ জানান, কারাগারে ঈদের দুটি জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকালে বন্দিদের মুড়ি ও পায়েস দেওয়া হয়। এরপর তারা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নেন। দুপুরে বিশেষ খাবার হিসেবে পোলাও, গরুর রেজালা বা খাসির মাংস, ডিম, মুরগির রোস্ট ও মিষ্টি পরিবেশন করা হয়। রাতের খাবারের তালিকায় ছিল সাদা ভাত, রুই মাছ ও আলুর দম।
কারা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকাসহ দেশের ৭৩টি কারাগারে প্রায় আশি হাজার বন্দি রয়েছেন। ঈদের দিনসহ মোট তিন দিনের মধ্যে যেকোনো একদিন স্বজনদের রান্না করা খাবার খাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন তারা। পাশাপাশি মোবাইল ফোনে তিন মিনিট করে পরিবারের সঙ্গে বিনামূল্যে কথা বলার সুযোগও দেওয়া হয়েছে।
এনএন/ ২১ মার্চ ২০২৬





