ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে ড. ইউনূসের বার্তা

ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে ড. ইউনূসের বার্তা

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। শুক্রবার (২০ মার্চ) নিজের ফেসবুক পেজে এ-সংক্রান্ত পোস্ট দিয়েছেন তিনি। তার পোস্টটি নিচে হুবহু দেওয়া হলো।

ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে ড. ইউনূসের বার্তা

প্রায় দুই বিলিয়ন মুসলমান পবিত্র রমজান মাসের সিয়াম সাধনা শেষে ঈদুল ফিতর উদ্‌যাপন করছেন। এই উদ্‌যাপনের সময়ে আমার হৃদয়ে ও চিন্তায় রয়েছে ইরান, লেবানন এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে সংঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত লাখো মানুষ।

সম্প্রতি ইরানের জনগণের ওপর আরোপিত এক বিধ্বংসী যুদ্ধে হাজারো মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। এই ভয়াবহ সংঘাত এড়িয়ে শান্তিপূর্ণ পদক্ষেপের স্পষ্ট সুযোগ থাকা সত্ত্বেও সামরিক সংঘর্ষের পথই বেছে নেওয়া হয়েছে। প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপের ফলে সৃষ্ট একের পর এক সহিংস ঘটনা এখন পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে, যা উপসাগরীয় বিভিন্ন দেশকেও প্রভাবিত করছে। তাই এই উদ্‌যাপনের দিনে আমি আন্তরিকভাবে কামনা করি, অবশেষে যেন শান্তির বিজয় ঘটে।

বহু দশক ধরে পশ্চিম এশিয়াকে গ্রাস করতে থাকা সংঘাতের এই চক্রটির অবসান ঘটতেই হবে। আমি প্রার্থনা করি, ইরান, ফিলিস্তিন, লেবানন, উপসাগরীয় দেশসমূহ এবং ইসরায়েলের জনগণ যেন শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের একটি সম্মিলিত পথ খুঁজে পায়।

বাংলাদেশের মানুষের কাছে এই উদ্বেগ গভীরভাবে ব্যক্তিগত। এ দেশের কয়েক লাখ পরিবার এখন প্রবাসে কর্মরত তাদের সন্তান, মা-বাবা ও স্বজনদের নিরাপত্তা নিয়ে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। দুঃখজনকভাবে, এই যুদ্ধের প্রভাব ইতোমধ্যেই আমাদের দেশেও অনুভূত হয়েছে; বিভিন্ন অঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত বাংলাদেশিদের জন্য আমরা শোকাহত।

বিশ্ব আরও একটি আঞ্চলিক সংঘাতের ভার বহন করার মতো অবস্থায় নেই। ইউক্রেনের যুদ্ধ এখনো চলমান, ইতোমধ্যে চতুর্থ বছরে প্রবেশ করেছে। এই সংঘাতগুলো আলাদা কোনো বাস্তবতায় সীমাবদ্ধ নয়; বরং এর সবচেয়ে বড় ধাক্কা লাগে বিশ্বের প্রতিটি দেশের দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের ওপর। বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাওয়ায় কোটি কোটি মানুষের পক্ষে ন্যূনতম পুষ্টি নিশ্চিত করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। ক্রমবর্ধমান খরচ আরও বেশি পরিবারকে দীর্ঘস্থায়ী দারিদ্র্যের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

বিশ্বের অষ্টম সর্বাধিক জনবহুল দেশের সাবেক সরকারপ্রধান হিসেবে আমি সরাসরি দেখেছি, যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক খাদ্য ও জ্বালানি বাজার অস্থির হয়ে পড়লে দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে লড়াই করা প্রায় অসম্ভব হয়ে ওঠে।

আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে

এই ঈদে আমাদের বহুল আকাঙ্ক্ষিত শান্তি ও স্থিতিশীলতা আসুক। সহিংসতার এই চক্রের অবসান আমাদের ঘটাতেই হবে, কারণ প্রতিনিয়ত বাড়তে থাকা মানবিক সংকটের এই ভার বিশ্ব আর বহন করতে পারছে না।

সবাইকে ঈদ মোবারক।

Scroll to Top