ঈদে রক্তচাপ বেড়ে গেলে যা করবেন

ঈদে রক্তচাপ বেড়ে গেলে যা করবেন

ঈদ মানেই আনন্দ, ঈদ মানেই খুশির ব্যস্ততা আর নানা আয়োজনে অংশ থাকা। তবে এই আনন্দের মধ্যেই অনেকের রক্তচাপ বেড়ে যেতে পারে। হঠাৎ করে রক্তচাপ বেড়ে গেলে অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। আতঙ্কিত না হয়ে সঠিক পদক্ষেপ নিলে পরিস্থিতি সহজেই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।

ঈদে রক্তচাপ বেড়ে গেলে যা করবেন

সাধারণত উচ্চ রক্তচাপের তেমন কোনো লক্ষণ থাকে না। তবে কখনো কখনো বুক ধড়ফড় করা, মাথা ঘোরা, মাথাব্যথা কিংবা বমিভাবের মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে এসব উপসর্গ আরও গুরুতর সমস্যার পূর্বাভাসও হতে পারে।

চিকিৎসকদের মতে, হঠাৎ রক্তচাপ বেড়ে যাওয়া মানেই সব সময় বড় বিপদের সংকেত নয়, তবে বিষয়টি একেবারেই অবহেলা করাও উচিত নয়। কারণ রক্তচাপ খুব বেশি বেড়ে গেলে তা হৃদরোগ, স্ট্রোক বা কিডনির সমস্যার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

হঠাৎ রক্তচাপ বেড়ে গেলে করণীয়

১. নিজেকে শান্ত রেখে নিরিবিলি কোনো জায়গায় বসে ধীরে ধীরে গভীর শ্বাস নেওয়ার চেষ্টা করুন। এতে শরীর ও মন দুটোই কিছুটা স্বস্তি পাবে।

২. ধীরে ধীরে এক গ্লাস স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানি পান করুন। অনেক সময় শরীরে পানির ঘাটতির কারণে রক্তনালিগুলো সংকুচিত হয়ে রক্তচাপ বাড়তে পারে।

৩. শরীর গরম লাগলে বা ঘাম হলে মাথা বা ঘাড়ের পেছনে ঠান্ডা সেঁক দিতে পারেন।

৪. ভেজা কাপড় বা আইস প্যাক ব্যবহার করলে শরীরের তাপমাত্রা কিছুটা কমে এবং স্বস্তি পাওয়া যায়।

৫. প্রতি ১৫-২০ মিনিট পরপর রক্তচাপ পরিমাপ করে দেখুন তা কমছে কি না। যদি রক্তচাপ ১৮০/১২০ বা তার বেশি থাকে, অথবা বুকব্যথা, শ্বাসকষ্ট, দৃষ্টি ঝাপসা হওয়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়, তাহলে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।

যা করা উচিত নয়

১. অনেকেই হঠাৎ রক্তচাপ বেড়ে গেলে ঘরোয়া টোটকা হিসেবে তেঁতুলের শরবত বা অন্য কিছু খেয়ে থাকেন। তবে এগুলোর মাধ্যমে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে আসে-এমন কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।

২.চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিজে থেকে কোনো ওষুধ খাওয়া ঠিক নয়। ভুল ওষুধ বা মাত্রা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে

সতর্ক থাকা জরুরি

যাদের আগে থেকেই উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত। হঠাৎ রক্তচাপ বেড়ে গেলেও অস্থির না হয়ে বিশ্রাম নেওয়া এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ উপায়। নিজের স্বাস্থ্যের প্রতি সচেতন থাকা খুবই জরুরি।

Scroll to Top