ইরানের সঙ্গে চলমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যে আগুন লাগার ঘটনার পর মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড যুদ্ধক্ষেত্র ছেড়ে বন্দরের দিকে রওনা হয়েছে।
সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ এ তথ্য জানিয়েছে।
বিষয়টি সম্পর্কে অবগত এক মার্কিন কর্মকর্তা জানান, জাহাজটির লন্ড্রি অংশে আগুন লাগে, এতে অন্তত দুই নাবিক আহত হন। তবে তাদের আঘাত প্রাণঘাতী নয়।
তিনি জানান, বর্তমানে লোহিত সাগরে অবস্থানরত এই রণতরীটি গ্রিসের ক্রিট দ্বীপের সৌদা উপসাগরের দিকে যাচ্ছে। এর আগে ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে লোহিত সাগরে যাওয়ার পথে একই বন্দরে থেমেছিল জাহাজটি।
এ বিষয়ে মার্কিন নৌবাহিনীর এক মুখপাত্র জাহাজটির অবস্থা বা এর সঙ্গে থাকা গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ারগুলো অঞ্চলে থাকবে কিনা সে বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তবে আরেক প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ফোর্ডের নেতৃত্বাধীন ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ লোহিত সাগরে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাবে।
মার্কিন সামরিক বাহিনী আগুন লাগার ঘটনার বিস্তারিত জানায়নি। প্রায় এক লাখ টন ওজনের এই পারমাণবিক শক্তিচালিত রণতরীতে চার হাজারের বেশি নাবিক রয়েছে। গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে নাবিকদের ৩০ ঘণ্টারও বেশি সময় লেগেছে এবং ৬০০-এর বেশি সদস্য তাদের শোয়ার জায়গা হারিয়েছেন।
উল্লেখ্য, ভেনেজুয়েলা সংক্রান্ত অভিযানে অংশ নেওয়ার সময় সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই রণতরীটিকে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানোর নির্দেশ দেন। গত বছরের জুনে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করার পর থেকে এর মোতায়েন সময়সীমা একাধিকবার বাড়ানো হয়েছে, যা স্বাভাবিক ছয় মাসের মেয়াদের চেয়েও অনেক বেশি।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে নির্মিত সবচেয়ে ব্যয়বহুল এই যুদ্ধজাহাজটির সঙ্গে রয়েছে গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার এবং বিভিন্ন ধরনের যুদ্ধবিমান যেমন এফ/এ-১৮ই ও এফ/এ-১৮এফ সুপার হর্নেট, ই-২ডি আর্লি ওয়ার্নিং বিমান, এমএইচ-৬০ সিরিজের হেলিকপ্টার এবং সি-২এ গ্রেহাউন্ড।
দীর্ঘ সময় সমুদ্রে অবস্থান নাবিকদের মানসিক অবস্থা ও পারিবারিক জীবনে চাপ সৃষ্টি করে এমন বাস্তবতা স্বীকার করেছে মার্কিন নৌবাহিনীও। এক বিবৃতিতে তারা জানায়, পরিবারের কাছ থেকে দীর্ঘ সময় দূরে থাকা নাবিকদের জন্য বাস্তব ও পরিমাপযোগ্য ত্যাগ স্বীকারের বিষয়।
এদিকে, চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানা যায়, রণতরীটিতে টয়লেট ব্যবস্থায় ত্রুটি দেখা দিয়েছিল, যা বারবার বিকল হচ্ছিল। নৌবাহিনী বলেছে, অনেক ক্ষেত্রে অনুপযুক্ত জিনিস ফ্লাশ করার কারণেই এই সমস্যাগুলো তৈরি হয়েছে।





