সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার সীমান্ত নদী যাদুকাটার তীরে আজ মঙ্গলবার ভোর থেকে শুরু হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব ‘পণাতীর্থ ধামের মহাবারুণী ও গঙ্গাস্নান’।
ধর্মীয় বিশ্বাস ও আধ্যাত্মিক ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে দেশ-বিদেশের লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থী এই উৎসবে সমবেত হয়েছেন। তবে সড়কপথের বেহাল অবস্থার কারণে আনন্দঘন এই উৎসবে যাতায়াতের দুর্ভোগ বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এ বছর স্নানের মুখ্য সময় নির্ধারণ করা হয়েছে আজ মঙ্গলবার ভোর ৫টা ৩০ মিনিট থেকে সকাল ৮টা ৭ মিনিট পর্যন্ত। প্রচলিত বিশ্বাস মতে, ১৪০০ খ্রিস্টাব্দের মাঝামাঝি সময়ে শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভুর অন্যতম পার্ষদ সাধক অদ্বৈতচার্য তাঁর মায়ের শেষ ইচ্ছা পূরণে যোগ সাধনার মাধ্যমে পৃথিবীর সকল তীর্থের জল যাদুকাটা নদীতে একত্রিত করেছিলেন। সেই থেকে প্রতি বছর চৈত্র মাসের এই তিথিতে ‘বারুণী যোগ’ উপলক্ষ্যে যাদুকাটার তীরে এই বিশাল মিলনমেলা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।
উৎসবে আসা পুণ্যার্থীদের জন্য বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে যাতায়াত ব্যবস্থা। বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ধনপুর বাজার থেকে পুরানগাঁও পর্যন্ত সড়কের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। স্থানীয়দের অভিযোগ, বড় বড় গর্ত আর কাদার কারণে এই পথে এখন পায়ে হেঁটে চলাও দায় হয়ে পড়েছে।
এই দুর্ভোগ এড়াতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুণ্যার্থীদের বিকল্প নৌপথ ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে বিভিন্ন যানবাহনের ভাড়াও নির্ধারণ করে দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন, যাতে পুণ্যার্থীরা হয়রানির শিকার না হন।
উৎসব প্রাঙ্গণে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে গড়ে তোলা হয়েছে চার স্তরের কঠোর নিরাপত্তাবলয়। তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান মানিক এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন যাদুকাটার উভয় তীরে পুলিশ, বিজিবি ও আনসার সদস্যরা মোতায়েন রয়েছেন। সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি ও সার্বক্ষণিক ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হচ্ছে। জরুরি স্বাস্থ্যসেবার জন্য প্রস্তুত রয়েছে বিশেষ মেডিকেল টিম।
সা¤প্রদায়িক স¤প্রীতির অনন্য উদাহরণ হিসেবে প্রতি বছর এই সময়ে হযরত শাহ আরেফিন (রহ.)-এর ওরস অনুষ্ঠিত হলেও, এবার পবিত্র শবে কদর ও ঈদুল আজহার ভাবগাম্ভীর্য রক্ষায় ওরস ও মেলা স্থগিত রাখা হয়েছে। প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তকে স্থানীয়রা ইতিবাচকভাবে দেখছেন।



