
নয়াদিল্লি, ১৬ মার্চ – যুক্তরাষ্ট্রের একটি স্বাধীন সংস্থা ধর্মীয় স্বাধীনতার চরম অবনতির অভিযোগে ভারতকে বিশেষ উদ্বেগপূর্ণ দেশ হিসেবে ঘোষণার সুপারিশ করেছে। একই সঙ্গে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইং এবং কট্টর হিন্দুত্ববাদী সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানিয়েছে তারা।
চলতি মাসের শুরুতে প্রকাশিত যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা কমিশনের বার্ষিক প্রতিবেদনে এসব সুপারিশ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় যে, ২০২৫ সালে ভারতে ধর্মীয় স্বাধীনতার পরিস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে অবনতির দিকে গেছে।
মার্কিন এই সংস্থাটির অভিযোগ, সংখ্যালঘু ধর্মীয় সম্প্রদায় এবং তাদের উপাসনালয়গুলোকে লক্ষ্য করে ভারত সরকার নতুন আইন প্রণয়ন ও প্রয়োগ করেছে। ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে ধর্মান্তরবিরোধী আইন আরও কঠোর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যেখানে দীর্ঘ কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। এছাড়াও সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী গোষ্ঠীর হামলার ঘটনায় কর্তৃপক্ষের সহনশীল মনোভাবের সমালোচনা করা হয়েছে।
ইউএসসিআইআরএফ জানিয়েছে, হিন্দু জাতীয়তাবাদী গোষ্ঠীগুলো সারা বছর বিভিন্ন রাজ্যে মুসলিম ও খ্রিস্টানদের বিরুদ্ধে হয়রানি, উসকানি এবং সহিংসতায় সরাসরি জড়িত ছিল। ২০২৫ সালের মার্চে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবের সমাধি অপসারণের দাবি তোলার পর মহারাষ্ট্রে ব্যাপক সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে।
জুন মাসে উড়িষ্যায় আয়োজিত এক বিক্ষোভের সময় কোরআন অবমাননার অভিযোগ ওঠে এবং সংঘর্ষে কয়েকজন আহত হন।
গত এপ্রিল মাসে কাশ্মীরে হিন্দু পর্যটকদের ওপর বন্দুকধারীদের হামলায় ছাব্বিশ জন নিহত হওয়ার পর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে পাঁচ দিনের সংঘাত শুরু হয় বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
মে মাসে চল্লিশ জন রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আটক করে মিয়ানমারের জলসীমার কাছে নিয়ে গিয়ে লাইফ জ্যাকেট দিয়ে সমুদ্রে ফেলে দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগও প্রতিবেদনে স্থান পেয়েছে।
জুলাই মাসে আসাম থেকে শত শত বাংলা ভাষাভাষী মুসলিমকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়ার অভিযোগও তুলে ধরা হয়েছে, যাদের অনেকেই ভারতীয় নাগরিক ছিলেন বলে দাবি করা হয়।
এ অবস্থায় আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা আইন অনুযায়ী ভারতকে বিশেষ উদ্বেগের দেশ হিসেবে ঘোষণা করতে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে জোরালো সুপারিশ করেছে ইউএসসিআইআরএফ।
সংস্থাটি আরও বলেছে, রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের মতো সংগঠনের বিরুদ্ধে লক্ষ্যভিত্তিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে তাদের সম্পদ জব্দ করা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া যেতে পারে। পাশাপাশি ধর্মীয় স্বাধীনতা পরিস্থিতির উন্নতির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা সহায়তা এবং বাণিজ্যিক সম্পর্ক যুক্ত করার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে এই প্রতিবেদনে।
এনএন/ ১৬ মার্চ ২০২৬





