
ঢাকা, ১৫ মার্চ – তথ্য মন্ত্রণালয়কে কার্যকরভাবে পরিচালনা করার জন্য বিশেষ জ্ঞানের প্রয়োজন হলেও বারবার দায়িত্ব পরিবর্তনের কারণে তা গড়ে ওঠে না বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি জানান আজ এক মন্ত্রণালয় আর কাল অন্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালনের কারণে প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনের সুযোগ সীমিত হয়ে যায়।
জনসেবা নিশ্চিত করতে কিছু ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ জ্ঞান অপরিহার্য যা নিয়মিত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে চর্চা করা উচিত। কিন্তু যথাযথ উদ্যোগের অভাবে অনেক সময় ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি হয়।
রোববার ডিআরইউ শফিকুল কবির মিলনায়তনে বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টারস অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত এক ইফতার ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রী জানান মন্ত্রণালয়কে নতুনভাবে ঢেলে সাজানোর বিষয়ে বর্তমান সরকার গভীরভাবে চিন্তাভাবনা করছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে মানুষের অবাধ তথ্যপ্রাপ্তির অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ চলছে।
তিনি উল্লেখ করেন বর্তমান সময়ে অন্ন বস্ত্র বাসস্থান চিকিৎসা ও শিক্ষার পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তির সুবিধাও মানুষের জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়েছে। মৌলিক চাহিদা পূরণ হলেও মানুষ ইন্টারনেট ও স্মার্টফোনের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হলে নতুন প্রজন্ম তা মেনে নেবে না।
রাষ্ট্রের বিভিন্ন ত্রুটি ও সমস্যাগুলো চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে উল্লেখ করে তিনি বলেন তথ্য মন্ত্রণালয়কে প্রতিনিয়ত সেবা প্রদান করতে হলে সরকারের ডিজিটাল ক্ষমতায়ন একান্ত প্রয়োজন। সাইবার ঝুঁকিসহ নানা প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে মানুষের দোরগোড়ায় নিরাপদ সেবা পৌঁছে দিতে হবে। এর জন্য প্রযুক্তিগত জ্ঞানের বিকাশ এবং বিপুল সংখ্যক প্রযুক্তিবিদকে সরকারি জনবল কাঠামোর আওতায় আনার ওপর জোর দেন তিনি।
সাংবাদিকদের কল্যাণে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন সাংবাদিকদের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আলোচনা চলছে এবং সেগুলো লিপিবদ্ধ করা হচ্ছে। খুব শিগগিরই সাংবাদিক নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়ের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
ওয়েজবোর্ড নিয়ে কাজ করতে গিয়ে সৃষ্ট জটিলতার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান এটি তথ্য মন্ত্রণালয় নাকি শ্রম মন্ত্রণালয়ের অধীনে তা নিয়ে অস্পষ্টতা রয়েছে। তবে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। সংস্কার ছাড়া সাংবাদিকদের কল্যাণে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব নয় বলেও তিনি মত প্রকাশ করেন। পাশাপাশি ক্রাইম বিটের সাংবাদিকদের সমস্যাগুলো তালিকাবদ্ধ করে মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
ক্র্যাবের সভাপতি মির্জা মেহেদী তমালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই ইফতার ও দোয়া মাহফিলে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডিএমপি কমিশনার মো. সারওয়ার জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ বিএফইউজের সভাপতি ওবায়দুর রহমান শাহীন মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী ডিইউজের সভাপতি শহীদুল ইসলাম ডিআরইউয়ের সভাপতি আবু সালেহ আকন এবং সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন সোহেল।
এছাড়াও ভারতীয় হাই কমিশনের দ্বিতীয় সচিব পুজা কুমারী ঝাঁ সিঙ্গাপুর হাই কমিশনের সেকেন্ড সেক্রেটারি হিউ কং সিয়াং সহ ক্র্যাবের সাবেক ও বর্তমান সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ক্র্যাবের সাধারণ সম্পাদক এম এম বাদশাহ।
এনএন/ ১৫ মার্চ ২০২৬




