
তেহরান, ১৩ মার্চ – ইরান, ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান উত্তেজনার প্রভাবে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে ব্যাপক অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম আবারও প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী গত বৃহস্পতিবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৯ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পায় এবং জিএমটি ৩.০০ পর্যন্ত ব্রেন্ট ফিউচারের দাম ১০১.১৩ ডলারে পৌঁছায়। তেলের এই মূল্যবৃদ্ধির নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক শেয়ার বাজারেও। ওয়াল স্ট্রিটে দরপতনের পর শুক্রবার টোকিও, সিউল এবং হংকংসহ এশিয়ার বিভিন্ন শেয়ার বাজার নিম্নমুখী প্রবণতা নিয়ে লেনদেন শুরু করে।
বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বন্ধ রাখার হুঁশিয়ারি দেওয়ার পরই তেলের দামে এমন উল্লম্ফন দেখা যায়। দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়, নৌ চলাচলে বাধা সৃষ্টির এই হুমকি তেহরানের একটি কৌশলগত হাতিয়ার, যা তারা প্রয়োজনে ব্যবহার করবে। অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও এই বিষয়ে কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্টে উল্লেখ করেন, তেলের দাম বৃদ্ধি একটি বড় বিষয় হলেও ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র থেকে দূরে রাখা তার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
ইরানের হুমকির কারণে হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস জানিয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরুর পর থেকে প্রতিদিন গড়ে মাত্র পাঁচটি জাহাজ এই পথ অতিক্রম করছে। অথচ যুদ্ধের আগে প্রতিদিন গড়ে ১৩৮টি জাহাজ চলাচল করত। বর্তমান সময়ে যে কয়েকটি জাহাজ চলছে তার বেশিরভাগই চীনের সঙ্গে সম্পৃক্ত। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ১৬টি বাণিজ্যিক জাহাজ হামলার শিকার হয়েছে। বাজারের এই অস্থিরতা সামাল দিতে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা তাদের জরুরি মজুদ থেকে ৪০ কোটি ব্যারেল তেল ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছে।
তবে এতে বাজারে খুব একটা ইতিবাচক প্রভাব পড়েনি। ব্যবসায়ীদের মতে, বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় দেড় থেকে দুই কোটি ব্যারেল তেলের ঘাটতি রয়েছে। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্বালানি নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ আদি ইমসিরোভিচ জানান, এই যুদ্ধের কোনো সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য না থাকায় তেল ব্যবসায়ীদের পক্ষে সংকটের শেষ কোথায় তা অনুমান করা কঠিন হয়ে পড়েছে। বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে মার্কিন নৌবাহিনীর পাহারায় চলাচলের সম্ভাবনার কথা ডোনাল্ড ট্রাম্প উল্লেখ করলেও পেন্টাগন এখনো এ ধরনের কোনো অভিযান শুরু করেনি। মার্কিন জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইট সিএনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট করেছেন যে যুক্তরাষ্ট্র এখনই নৌ পাহারা দিতে প্রস্তুত নয়। তবে চলতি মাসের শেষ নাগাদ এমন কোনো উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে বলে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন।
এস এম/ ১৩ মার্চ ২০২৬





