ভোলার চরনিজামে বিদেশি জাহাজের মালিকানা নিয়ে দ্বন্দ্ব, স্থানীয়দের নামে চাঁদাবাজির মামলা – DesheBideshe

ভোলার চরনিজামে বিদেশি জাহাজের মালিকানা নিয়ে দ্বন্দ্ব, স্থানীয়দের নামে চাঁদাবাজির মামলা – DesheBideshe

ভোলার চরনিজামে বিদেশি জাহাজের মালিকানা নিয়ে দ্বন্দ্ব, স্থানীয়দের নামে চাঁদাবাজির মামলা – DesheBideshe

ভোলা, ১২ মার্চ – ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার সাগর মোহনার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ ঢালচরের চরনিজামে ভেসে আসা একটি বিদেশি জাহাজের মালিকানা নিয়ে ব্যাপক দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়েছে। জাহাজটির দখল নেওয়াকে কেন্দ্র করে একটি পক্ষ স্থানীয়দের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করেছে। এই মামলার কারণে স্থানীয় অনেক বাসিন্দা বর্তমানে এলাকাছাড়া।

হয়রানিমূলক এই মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে এলাকাবাসী একটি মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন। গত ১১ মার্চ দুপুরে চরফ্যাশন উপজেলার বিচ্ছিন্ন ঢালচর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের চরনিজাম এলাকায় মেঘনা নদীর পাড়ে শত শত মানুষ এই মানববন্ধনে অংশ নেন। মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী মামলার আসামি ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান যে ২০২২ সালের ১৫ জুলাই সিঙ্গাপুর থেকে আসা আলকুবতান নামের একটি বিদেশি জাহাজ চরনিজামে ভেসে আসে।

এরপর থেকে বিভিন্ন চক্র জাহাজটির মালিকানা দাবি করে এর বিভিন্ন অংশ ও মূল্যবান যন্ত্রপাতি লুট করে নিয়ে যায়। সম্প্রতি ঢাকা থেকে আগত কাজী এমদাদুল হক নামের এক ব্যক্তি আদালতের মাধ্যমে জাহাজটি নিলামে কিনেছেন বলে দাবি করেন।

তিনি জাহাজটি ভাসিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে অন্য একটি পক্ষের সঙ্গে তার সংঘর্ষ ও মারামারির ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা সন্দেহ করছেন যে এটি একটি প্রতারক চক্রের কাজ। তাই তারা জাহাজটি মেরামত ও কেটে নিয়ে যাওয়ার কাজে বাধা দেন। এর জেরে গত ২৭ ফেব্রুয়ারি কাজী এমদাদুল হক বাদী হয়ে দক্ষিণ আইচা থানায় স্থানীয়দের বিরুদ্ধে ৫০ লাখ টাকার চাঁদাবাজি, মোবাইল ছিনতাই ও মারধরের অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেন।

মামলা দায়েরের পর থেকে পুলিশি গ্রেফতার আতঙ্কে স্থানীয়দের অনেকেই গ্রামছাড়া হয়ে আছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ প্রতারক চক্রটি থানা পুলিশকে ম্যানেজ করে তাদের বিরুদ্ধে এই মিথ্যা মামলা দিয়েছে। তারা জানান যদি কেউ আইনগতভাবে জাহাজের বৈধ মালিকানা প্রমাণ করতে পারেন তবে তাদের কোনো আপত্তি থাকবে না।

দীর্ঘদিন ধরে জাহাজটি পাহারা দিয়ে রক্ষা করার পরও তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়ায় তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তারা এই মামলা দ্রুত প্রত্যাহার এবং পুলিশি হয়রানি বন্ধের জোর দাবি জানান। জাহাজ উদ্ধারকারী প্রতিষ্ঠান মেরিন স্যালভেজ বিবি জাফরিনের ডুবুরি দলের প্রধান শাহ আলম জানান যে কাজী এমদাদুল হক তাকে ঢাকার মুন্সিগঞ্জ থেকে এখানে নিয়ে এসেছেন এবং জাহাজটি মেরামতের নির্দেশ দিয়েছেন।

তারা পুলিশি পাহারায় কাজ করছেন এবং তাদের মূল উদ্দেশ্য হলো জাহাজটি ভাসিয়ে রাখা। অভিযোগের বিষয়ে কাজী এমদাদুল হক জানান তিনি একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করেন এবং হাইকোর্টের মাধ্যমে জাহাজটি নিলামে পেয়েছেন। এরপর জাহাজটি মেরামত করতে গেলে স্থানীয়রা বাধা দেওয়ায় তিনি থানায় মামলা দায়ের করতে বাধ্য হয়েছেন। তিনি স্পষ্ট জানান যে আদালতের রায় অনুযায়ী তিনি তার কাজ চালিয়ে যাবেন।

চরফ্যাশনের দক্ষিণ আইচা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আহসান কবির জানান যে জাহাজটিকে কেন্দ্র করে এলাকায় সংঘর্ষ হলেও বর্তমানে সেখানকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।

আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পুলিশ জাহাজটি পাহারা দিচ্ছে। এরপরেও যারা আইনভঙ্গ করবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন। মানববন্ধনে স্থানীয় বাসিন্দা মাকসুদ সরকার, নুরুল্লাহ, কালাম চৌধুরীসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

এ এম/ ১২ মার্চ ২০২৬



Scroll to Top