নিজের ও পরিবারের ব্যাংক হিসাব জনসমক্ষে প্রকাশ করেছেন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।
বুধবার (৪ মার্চ) সন্ধ্যায় রাজধানীর বাংলামোটরে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য তুলে ধরেন।
এ সময় নিজের দুটি, বাবার পাঁচটি এবং মা ও স্ত্রীর একটি করে মোট নয়টি ব্যাংক হিসাবে থাকা প্রায় সাড়ে ১৫ লাখ টাকার তথ্য প্রকাশ তিনি।
প্রকাশিত হিসাব অনুযায়ী, আসিফের নিজের দুই অ্যাকাউন্টে আছে ৯ লাখ ৭৮ হাজার ৫৫৬ টাকা। আর পরিবারের অন্য সদস্যদের অ্যাকাউন্টে মোট আছে ৫ লাখ ৬৯ হাজার ৪৭৮ টাকা।
সংবাদ সম্মেলনের তিনি অভিযোগ করেন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) আসন্ন নির্বাচনে এনসিপির প্রার্থী হিসেবে তার অংশগ্রহণের বিষয়টি নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা সামনে আসার পর থেকে কিছু গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে তার চরিত্র হননের জন্য অপপ্রচার চালাচ্ছে।
কোন হিসাবে কত টাকা
সংবাদ সম্মেলনে নিজের নামে দুটি ব্যাংক হিসাব থাকার কথা উল্লেখ করে আসিফ মাহমুদ বলেন, এর মধ্যে সোনালী ব্যাংকের একটি সেভিংস অ্যাকাউন্টে আছে ৯ হাজার ৯৩০ টাকা। আর সরকারে থাকা অবস্থায় একটি স্যালারি অ্যাকাউন্ট করেছিলেন। ১৬ মাসে গড়ে ১ লাখ ৬৫ হাজার টাকা করে বেতন-ভাতা এবং পাঁচটি বিদেশ সফরের জন্য সরকারি টিএ-ডিএ বিলও এই হিসাবে এসেছে। এটি সব মিলিয়ে হবে ৩৫ থেকে ৪০ লাখ টাকা। এই অ্যাকাউন্টে বেতন-ভাতা মিলিয়ে মোট ক্রেডিট (জমা) হয়েছে ৮৫ লাখ ৮১ হাজার টাকা আর ডেবিট (তোলা) হয়েছে ৭৬ লাখ ৩ হাজার টাকা। দুটি অ্যাকাউন্ট মিলিয়ে তার এখন আছে মোট ৯ লাখ ৭৮ হাজার ৫৫৬ টাকা।
আসিফ মাহমুদের বাবা পেশায় শিক্ষক। তার নামে ব্যাংক হিসাব আছে পাঁচটি।
আসিফ বলেন, ‘পাঁচ অ্যাকাউন্ট মিলে মোট ক্রেডিট (জমা) আছে ৫ লাখ ৪৭ হাজার ৭১১ টাকা। বাবা ১০ লাখ টাকার সার্ভিস লোন নিয়েছিলেন। এর জন্য প্রতি মাসে তার বেতন থেকে একটি অংশ কেটে নেওয়া হয়। সার্ভিস লোন পেমেন্ট বাকি আছে ৬ লাখ ৩৯ হাজার ৭৪৬ টাকা। এই টাকাটা বাদ দিলে তিনি এখনো ৮২ হাজার ৩৫ টাকার মতো দেনায় আছেন।’
এর বাইরে মায়ের নামে একটি ব্যাংক হিসাবে ২১ হাজার ১৫৪ টাকা এবং স্ত্রীর নামে একটি হিসাবে ৬১৩ টাকা আছে বলে জানান আসিফ মাহমুদ।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দু’দিন আগে সরকারের প্রকাশিত বিবরণী অনুযায়ী আসিফের সম্পদের পরিমাণ ছিল ১৫ লাখ ৩৪ হাজার ৭১৭ টাকা। তখন অন্য উপদেষ্টারা নিজেদের পাশাপাশি স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদের বিবরণী প্রকাশ করলেও আসিফ মাহমুদ শুধু নিজের সম্পদের তথ্য দিয়েছিলেন।
আজ ব্যাংক হিসাবের তথ্য প্রকাশের সময় আসিফ বলেন, ‘আমি যখন সরকার থেকে পদত্যাগ করি, তখন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কাছে আমার আয় ও সম্পদের সম্পূর্ণ বিবরণী পেশ করে এসেছি। তারপরও যেহেতু আবার এগুলো নিয়ে কথা উঠল এবং জল ঘোলা করার চেষ্টা করা হচ্ছে, তাই আমার এবং আমার পরিবারের সবার ব্যাংক হিসাব জনগণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া প্রয়োজন বলে আমার মনে হয়েছে।’
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা মনিরা শারমিন, হুমায়রা নূর প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।




