যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ধারাবাহিক বিমান হামলায় ধুঁকছে ইরান। সময়ের সঙ্গে প্রাণহানির সংখ্যা বাড়ছে। যুদ্ধকালীন অবস্থার মধ্যেই উইমেন্স এশিয়া কাপ খেলতে অস্ট্রেলিয়ায় আছেন দেশটির নারী ফুটবল দল। হাজারো মাইল দূরে নিরাপদে থাকলেও পরিবার ও কাছের মানুষদের নিয়ে দুশ্চিন্তাতেই কাটছে তাদের প্রহর। তবে পেশাদারিত্ব বজায় রাখতে সেসব চাপা দিয়েই আসরে ব্যস্ত সময় কাটাতে হচ্ছে মেয়েদের।
গত শনিবার সকালে হঠাৎ করেই ইরানে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এতে দেশটি সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ সরকারের আরও অনেক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। প্রতিক্রিয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা ইরান। এরপর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলও দেশটিতে বিমান হামলা করে যাচ্ছে। তাতে পরিস্থিত ক্রমশই ভয়াবহ হচ্ছে।
চলমান যুদ্ধাবস্থায় দেশের অস্ট্রেলিয়ায় এশিয়ান কাপ খেলায় ব্যস্ত ফরোয়ার্ড দিদারকে প্রশ্ন করেন এক সাংবাদিক। উত্তর দিতে গিয়ে কান্না আটকাতে লড়াই করতে হয়েছিল তাকে। বলেছেন, ‘ইরানে যা হচ্ছে, অবশ্যই তা নিয়ে আমরা চিন্তিত এবং কষ্ট পাচ্ছি, আমাদের পরিবার ও আমাদের ভালোবাসার মানুষগুলো ইরানেই আছে। তবে আমি সত্যিই আশা করি, দেশের জন্য ভালো কিছু হবে, সামনে ভালো খবর আসবে এবং আমার দেশ শক্তভাবে টিকে থাকবে।’
দেশটির প্রধান কোচ মারজিয়েহ জাফারি জানিয়েছেন, দুশ্চিন্তা ও সব চ্যালেঞ্জ সামলে মেয়েরা খেলায় মনোযোগ রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। বলেছেন, ‘আমাদের পরিবার ও ইরানের মানুষদের নিয়ে আমাদের খুব চিন্তা হচ্ছে। কেউই যুদ্ধ চায় না…কিন্ত এখানে আমরা পেশাদারিত্বের সঙ্গে ফুটবল খেলতে এসেছি এবং আমরা ফুটবলে ও আগামী ম্যাচে মনোযোগ ধরে রাখতে আমার সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।’
আসরে নিজেদের প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে ৩-০ গোলে হেরেছে ইরান। বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় ম্যাচে মুখোমুখি স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার।


