কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি যখন নয়া দিল্লীতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাথে সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের লক্ষ্য দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করছেন ঠিক এমন দিনেই কানাডীয় দৈনিক ‘দ্য গ্লোব অ্যান্ড মেইল’ প্রকাশ করেছে এক বিস্ফোরক প্রতিবেদন।
প্রতিবেদনে ২০২৩ সালে শিখ নেতা হরদীপ সিং নিজ্জর হত্যাকাণ্ডে এক ভারতীয় গোয়েন্দা কর্মকর্তার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তোলা হয়েছে।
জাতীয় নিরাপত্তা ও আইন-শৃঙ্খলা সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, কানাডার উপকূলীয় সমুদ্রবন্দর শহর ভ্যাঙ্কুভারে ভারতীয় কনস্যুলেটের কিছু কর্মকর্তা ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার সারে শহরে নিজ্জার হত্যাকাণ্ডে সহায়ক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সরবরাহ করেছিলেন।
‘র’–এর আন্ডারকভার কর্মকর্তা’ অভিযোগ
প্রতিবেদন অনুযায়ী, কনস্যুলেটের এক ভিসা কর্মকর্তা কূটনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে ভারতের বৈদেশিক গোয়েন্দা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইং (র’)-এর আন্ডারকভার অপারেটিভ হিসেবে কাজ করতেন। তিনি স্থানীয় ভারতীয় প্রবাসীদের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে নিজ্জার সম্পর্কে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করতেন বলে অভিযোগ।
ওই কর্মকর্তা ভ্যাঙ্কুভারের তৎকালীন কনসাল-জেনারেল ‘মনীশ’ নামের এক ক্যারিয়ার কূটনীতিকের সঙ্গে কাজ করতেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
কূটনৈতিক প্রেক্ষাপট
২০২৩ সালের জুনে সারে শহরের গুরু নানক শিখ গুরুদ্বারের বাইরে গুলিতে নিহত হন নিজ্জার, যিনি খালিস্তান আন্দোলনের একজন প্রভাবশালী সংগঠক ছিলেন।
ঘটনার পর কানাডার তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো ভারত সরকারের সম্ভাব্য সম্পৃক্ততার অভিযোগ তোলেন, যা দুই দেশের সম্পর্কে তীব্র টানাপোড়েন সৃষ্টি করে। ২০২৪ সালে কয়েকজন কূটনীতিক বহিষ্কারও করা হয়।
এদিকে, কার্নি–মোদি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে হায়দরাবাদ হাউসে। বাণিজ্য, জ্বালানি, গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি ও বিস্তৃত সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে। দুই দেশের মধ্যে ৫০ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের কথাও উঠে এসেছে।
ভারতের প্রতিক্রিয়া
প্রতিবেদন প্রকাশের পরপরই ভারত সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। অতীতে নয়াদিল্লি নিজ্জার হত্যায় রাষ্ট্রীয় সম্পৃক্ততার অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছে।
উল্লেখ্য, নিজ্জার হত্যায় চার ভারতীয় নাগরিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। তবে বিদেশি রাষ্ট্রীয় সম্পৃক্ততা নিয়ে তদন্ত এখনও চলমান।
দুই দেশের সম্পর্ক পুনর্গঠনের প্রচেষ্টার মাঝেই এই প্রতিবেদন নতুন করে কূটনৈতিক অস্বস্তি তৈরি করতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।





