প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে অপহৃত স্কুলছাত্র উদ্ধার | চ্যানেল আই অনলাইন

প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে অপহৃত স্কুলছাত্র উদ্ধার | চ্যানেল আই অনলাইন

রাজধানীর খিলগাঁওয়ে এক স্কুলছাত্র অপহৃত হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরাসরি হস্তক্ষেপে মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যে তাকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।

আজ মঙ্গলবার বিকেলে খিলগাঁওয়ের জোড়পুকুর এলাকার একটি সাততলা নির্মাণাধীন ভবন থেকে ওই শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করা হয়। অপহৃত স্কুলছাত্রের বাবা খন্দকার শামীম সচিবালয়ের একজন কর্মচারী বলে জানা গেছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডিএমপির রমনা জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) মো. মাজহারুল ইসলাম।

তিনি জানান, সচিবালয়ে কর্মরত একজন কর্মচারী প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থিত হয়ে তার ছেলে অপহরণের খবর জানান। তাৎক্ষণিকভাবে প্রধানমন্ত্রী রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. মাসুদ আলমকে ফোন করেন এবং তাকে উদ্ধারের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন। প্রধানমন্ত্রীর সেই নির্দেশনার পর তৎপর হয়ে ওঠে পুলিশ এবং মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যে ওই শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।

জানা যায়, ন্যাশনাল আইডিয়াল কলেজের নবম শ্রেণির ছাত্র আফফান সাইদ। তার বাবা সচিবালয়ের তথ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মচারী খন্দকার শামীম। বিকাল ৩টার দিকে সাইকেল চালানোর জন্য বাসা থেকে বের হয় সাঈদ। তবে কিছু সময়পরই আফফানের ফোন থেকে তার পরিবারের কাছে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ চেয়ে ফোন আসে। একমাত্র ছেলের এমন খবরে মুচড়ে পড়েন বাবা শামীম। সচিবালয়েই নিজের অফিসে কান্নায় ভেঙে পড়েন। পরিচিত অনেকের কাছে ছেলেকে উদ্ধারের সহায়তা চেয়ে বিভিন্নজনের কাছে ফোন করেন। তবে অফিস থেকে বের হতেই দেখতে পান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বের হচ্ছেন। প্রটোকল ভেঙেই তার কাছে ছুটে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তবে আটকে দেয় নিরাপত্তায় নিয়োজিত সদস্যরা। দৃশ্যটি দৃষ্টিগোচর হয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের। নিরাপত্তাকর্মীদের দিয়ে শামীম আহমেদকে কাছে ডেকে নেন তিনি।

শামীমের কাছ থেকে বিষয়টি অবগত হওয়া মাত্রই যথাযথ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন তিনি। নড়েচড়ে বসে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ। দুই ঘণ্টার মধ্যেই অপহৃত স্কুলছাত্র আফফান সাঈদকে চামেলীবাগের একটি সাততলা বিশিষ্ট নির্মাণাধীন ভবন থেকে উদ্ধার করে রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার মাসুদ আলমের নেৃত্বত্বাধীন টিম। স্বস্তি ফিরে আসে ভুক্তভোগী পরিবারে।

অপহৃত আফফানের বাবা খন্দকার শামীম বলেন, কৃতজ্ঞতা প্রকাশের ভাষা নেই আমার। প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ না হলে হয়তো আমার সন্তানকে এভাবে ফিরে পেতাম না। অপহরণকারীরা প্রথমে ৫০ হাজার টাকা দাবি করেছিল। কিছু সময় পর আমার শ্যালককে ফোন করে ৩০ হাজার টাকা দিতে বলে দ্রুত সময়ের মধ্যে। পুলিশ কিংবা কাউকে জানালে আফফানকে মেরে ফেলা হবে বলে জানায়।

রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার মাসুদ আলম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের পর পুলিশ প্রথমে টাকা পাঠানোর আশ্বাস দিয়ে অপহরণকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করে। মুক্তিপণের টাকা নিয়ে দর-কষাকষির মধ্যেই পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাদের অবস্থান শনাক্ত করে। পরে জোড়পুকুর এলাকার ওই নির্মাণাধীন ভবন থেকে শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করা হয়। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অপহরণকারীরা পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।

তিনি বলেন, মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই আমাদের কাজ। প্রধানমন্ত্রী নিজে বিষয়টির তদারকি করেছেন। অল্প সময়ের মধ্যে অক্ষত অবস্থায় অপহৃত ছাত্রকে উদ্ধার করতে পারায় অনেক ভালো লাগছে।

কারা অপহরণ করেছিল এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অপহরণকারীরা ওই এলাকারই ছিনতাইকারী এবং মাদকসেবী। বিষয়টি আমরা আরও গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছি।

Scroll to Top