তৌহিদের কাছে এবার যাওয়া যায়। শাহবাগে তৌহিদের অ্যাড ফার্ম আর প্রিন্টিং এজেন্সির অফিস। তৌহিদ তার জানের টুকরা দোস্ত। তাকে দেখে জড়িয়ে ধরে আর ছাড়ে না। ‘শালা, পুরা এক মাস তোর দেখা নাই। কেমন আছস? বিয়া কইরা ভুলে গেলি দোস্তরে।’
অপু হাসে। এখনো কথা বলার সময় আসেনি। একটু অপেক্ষা।
‘কী খাবি, লাঞ্চ কর।’
মাথা নাড়ে অপু, খাবে না।
‘চা খাবি? না কফি?’
অপু ইশারায় বোঝায়, প্রথমটা।
তৌহিদের অফিসরুমে এখন তারা দুইজন। সামনে চা রাখা। এখন বলা যায়।
‘তৌহিদ!’
তৌহিদ চেয়ার থেকে পড়ে যেতে লেগে উঠে বসে।
‘তু–তুই কথা বলতেছিস! ওহ মাই গড! ক্যামনে অপু, ক্যামনে? আই অ্যাম সো হ্যাপি ম্যান! সো হ্যাপি!’
‘তুই ক্যান এত হ্যাপি রে, কুত্তার বাচ্চা?’
‘কী বলিস শালা, হ্যাপি হব না? ইউ আর মাই বেস্ট ফ্রেন্ড। ক্যামনে হলো দোস্ত? কোন ট্রিটমেন্টে? মিরাকেল!’
‘ওই আজকে ফুল ফুটছে তো, তাই।’
‘কই ফুল ফুটছে?’
‘ওই যে চাঁদ উঠেছে, ফুল ফুটেছে, কদমতলায় কে, হাতি নাচছে, ঘোড়া নাচছে সোনামনির বে।’
‘কী কস?’
‘কিছু না। শালা তুই আমারে শুধু ক, আমার বিয়ের দিন, তুই কাজী অফিসের বাইরে দাঁড়ায় লোকজনরে ক্যান বলছিস, দুই গাণ্ডু বোবায় বিয়ে বসছে? কেন অন্যদের সাথে হাসতেছিলি, বল! তুই না আমার বেস্ট ফ্রেন্ড?’
‘দোস্ত, হায় হায় আমার তো মনেও নাই, কী বলছি! এমনি মনে হয় সবাই মিলে একটু মশকরা করছি দোস্ত, নাথিং সিরিয়াস।’
‘ছোটবেলায় তুই পাড়ার সবাইরে বলতি না, এই বোবা হালারে বন্ধু বানায় খুবই ফায়দা। চা-পানির খরচ এই বোবায় দেয়। কথাবার্তা নাই, টাকা ঢালে খালি। বলিস নাই? আমি সব জানি তৌহিদ, সব জানি।’
‘সরি অপু! দোস্ত সরি!’
‘তৌহিদ, তোর চেহারা যেন আর কোনো দিন না দেখি। বন্ধুত্ব ডিসমিস।’
‘এত দিন কিছু বলিস নাই ক্যান? এই যে তোর এত রাগ, ইশারায় তো কত কিছু কইছিস, টেক্সট করিস কিছু হইলে, এইটাও বলতি?’
‘এই যে আমার মতন বোবার সাথে কেউ বন্ধুত্ব করছে, এই কৃতজ্ঞতায় তোর চাকর হয়ে ছিলাম শালা এত দিন। আর এমন করে চিৎকার করে মুখ খুলে এই যে হা–হা করে বলার যে আনন্দ! উফফ, এই দিনের অপেক্ষায় ছিলাম।’



