পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চুক্তি করতে যুক্তরাষ্ট্রের চাপের কাছে ইরান নত হবে না বলেন সাফ জানিয়ে দিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।
তার এই মন্তব্য আসে এমন সময়, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানকে চুক্তিতে বাধ্য করতে সীমিত সামরিক হামলার সম্ভাবনা বিবেচনার কথা জানিয়েছেন।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) ইরানি প্যারালিম্পিক দলের সদস্যদের সম্মাননা অনুষ্ঠানে পেজেশকিয়ান বলেন, “আমরা কোনো সমস্যার মুখে মাথা নত করব না।”
তিনি অভিযোগ করেন, বিশ্বশক্তিগুলো ইরানকে চাপ দিয়ে নতজানু করতে চাইছে।
উত্তেজনা বাড়ছে উপসাগরীয় অঞ্চলে
উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্র দুটি বিমানবাহী রণতরী ও বহু যুদ্ধবিমান মোতায়েন করে সামরিক উপস্থিতি জোরদার করছে।
চলতি মাসের শুরুতে ওমানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র পরোক্ষভাবে পারমাণবিক আলোচনা পুনরায় শুরু করে। গত সপ্তাহে সুইজারল্যান্ডে দ্বিতীয় দফা বৈঠক হয়। উভয় পক্ষ আলোচনা ইতিবাচক বলে উল্লেখ করলেও কোনো অগ্রগতি বা চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি শুক্রবার বলেন, কূটনৈতিক সমাধান হাতের নাগালে এবং দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে একটি খসড়া চুক্তি চূড়ান্ত করে ওয়াশিংটনে পাঠানো হতে পারে।
সংকটের সন্ধিক্ষণ
তেহরান থেকে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদক তোহিদ আসাদি জানান, দুই দেশ আবারও “সন্ধিক্ষণে” দাঁড়িয়ে আছে। রাজধানীর বাসিন্দারা কূটনৈতিক অগ্রগতির দিকে সতর্ক নজর রাখছেন।
এক নারী বলেন, “যুদ্ধ নিয়ে চিন্তা না করে থাকা কীভাবে সম্ভব? নিজেদের কথা না ভাবলেও সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবি।”
এক ব্যবসায়ী বলেন, সামরিক সংঘাত “অবশেষে অনিবার্য”, কারণ “আমেরিকা আত্মসমর্পণ চায়, আর ইরান তা মানবে না।”
তবে আরেক ব্যক্তি আশাবাদী মন্তব্য করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তান, ইরাক বা ভিয়েতনামের মতো কোথাও স্থায়ী জয় পায়নি; শেষ পর্যন্ত সমঝোতাই হবে।
সামরিক শক্তি বৃদ্ধি
মার্কিন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৩ সালে ইরাক আক্রমণের পর এই প্রথম এত বড় সামরিক শক্তি মধ্যপ্রাচ্যে জড়ো করছে ওয়াশিংটন। ইতোমধ্যে ১২০টির বেশি বিমান মোতায়েন করা হয়েছে। বিশ্বের বৃহত্তম বিমানবাহী রণতরী ‘‘ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড’’ আরব সাগরে অবস্থানরত ‘‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’’ এর সঙ্গে যোগ দিতে রওনা হয়েছে।
শুক্রবার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে পাঠানো এক চিঠিতে ইরান বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের এই সামরিক সমাবেশকে “শুধু কথার কথা” হিসেবে দেখা যাবে না। যদিও ইরান যুদ্ধ শুরু করতে চায় না, তবে যে কোনো মার্কিন আগ্রাসনের জবাব “দৃঢ় ও আনুপাতিকভাবে” দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
ট্রাম্প বৃহস্পতিবার বলেন, অর্থবহ চুক্তি না হলে খারাপ কিছু ঘটবে।
পরে এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ইরানের হাতে সর্বোচ্চ ১০ থেকে ১৫ দিন সময় আছে। শুক্রবার তিনি সীমিত সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা বিবেচনার কথাও স্বীকার করেন এবং ইরানকে ন্যায্য চুক্তি করতে সতর্ক করেন।
সম্ভাব্য আঞ্চলিক সংঘাতের আশঙ্কায় সুইডেন, সার্বিয়া, পোল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়াসহ কয়েকটি দেশ ইরানে থাকা তাদের নাগরিকদের দেশ ছাড়ার পরামর্শ দিয়েছে।


