
জেরুজালেম, ১৮ ফেব্রুয়ারি – ইসরায়েল ঘোষণা করেছে যে পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে দখলকৃত পশ্চিম তীর থেকে পূর্ব জেরুজালেমের আল-আকসা মসজিদে জুমার নামাজে অংশ নেওয়া ফিলিস্তিনি মুসল্লিদের সংখ্যা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই সংখ্যা ১০ হাজারের মধ্যে সীমিত রাখা হবে। কেবল সংখ্যার সীমা নয় বরং পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনিদের ওপর বয়সভিত্তিক নিষেধাজ্ঞাও জারি করা হয়েছে। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী কেবল ৫৫ বছর বা তার বেশি বয়সী পুরুষ এবং ৫০ বছর বা তার বেশি বয়সী নারীরা প্রবেশের অনুমতি পাবেন। এ ছাড়া সর্বোচ্চ ১২ বছর বয়সী শিশুরা তাদের প্রথম শ্রেণির আত্মীয়ের সঙ্গে মসজিদে প্রবেশের সুযোগ পাবে। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে বেসামরিক বিষয় তদারককারী সংস্থা কোগাট এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে রমজান মাসজুড়ে জুমার নামাজের জন্য টেম্পল মাউন্টে প্রবেশের ক্ষেত্রে মুসল্লিদের আগে থেকেই প্রতিদিনের বিশেষ অনুমতিপত্র সংগ্রহ করতে হবে। কোগাট এএফপিকে নিশ্চিত করেছে যে এই বিধিনিষেধ কেবল ১৯৬৭ সালের আরব ও ইসরায়েল যুদ্ধের পর থেকে ইসরায়েলের দখলে থাকা পশ্চিম তীরের বাসিন্দাদের জন্য প্রযোজ্য। সংস্থাটি আরও জানায় যে সব অনুমতিপত্র নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমোদনের ওপর নির্ভর করবে। নামাজ শেষে জুদিয়া ও সামারিয়া অঞ্চলে ফিরে যাওয়ার সময় মুসল্লিদের সীমান্তচৌকিতে ডিজিটাল নথিভুক্তির প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। সাধারণত রমজান মাসে আল-আকসায় লাখো মুসল্লির সমাগম হয় তবে ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজা যুদ্ধ শুরুর পর থেকে নিরাপত্তা শঙ্কা ও ইসরায়েলি কড়াকড়ির কারণে উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। এদিকে আল-আকসা মসজিদের জ্যেষ্ঠ ইমাম শেখ মুহাম্মদ আল-আব্বাসি জানিয়েছেন তাকেও মসজিদ প্রাঙ্গণে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছে। যদিও দীর্ঘদিনের নিয়ম অনুযায়ী ইহুদিরা আল-আকসা প্রাঙ্গণ পরিদর্শন করতে পারলেও সেখানে প্রার্থনা করার অনুমতি নেই কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে কট্টর ডানপন্থী রাজনীতিক ইতামার বেন গভিরসহ অনেকেই এই নিয়ম লঙ্ঘন করেছেন।
এসএএস/ ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬





