ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সম্পন্ন হওয়ার পর নির্বাচন কমিশনের আরোপিত যানবাহন চলাচলের বিধিনিষেধ প্রত্যাহার করা হয়েছে। ফলে মোটরসাইকেলসহ সব ধরনের যানবাহন সড়কে চলাচল শুরু করেছে। মোটরসাইকেলের ওপর সর্বোচ্চ ৭২ ঘণ্টার নিষেধাজ্ঞা ছিল।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রাত ১২টা থেকে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর না থাকায় দেশজুড়ে যান চলাচলে আর কোনো বাধা নেই। শনিবার সকালে রাজধানীর রামপুরা, হাতিরঝিল ও কারওয়ান বাজার মোড় এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, সড়কে মোটরসাইকেল, বাস, প্রাইভেটকার, সিএনজি ও পিকআপসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচল করছে। তবে স্বাভাবিক দিনের তুলনায় যানবাহনের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম।
চালকদের ভাষ্য, টানা ছুটির কারণে অনেকেই এখনো রাজধানীতে ফেরেননি। এ কারণে নিষেধাজ্ঞা উঠে গেলেও সড়কে যানবাহনের উপস্থিতি কম দেখা যাচ্ছে। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) থেকে পূর্ণ কর্মদিবস শুরু হলে বিকেল-সন্ধ্যার পর যানবাহনের চাপ বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে রাজধানীর বসুন্ধরা সিটি শপিং মলও খুলেছে। সকাল ১০টা থেকে বিপণিবিতানটি চালু হয় এবং দুপুরের দিকে ক্রেতাদের উপস্থিতি বাড়তে দেখা যায়। পার্কিং এলাকায়ও গাড়ির ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
নিষেধাজ্ঞা শেষে মোটরসাইকেলে খিলগাঁও থেকে গুলশানে অফিসে আসা রিয়ান আরাফাত বলেন, ভোট উপলক্ষে তিন দিন মোটরসাইকেল চালানো বন্ধ ছিল। নিয়মিত চালকদের জন্য এটি কিছুটা অস্বস্তিকর হলেও দেশের স্বার্থে নির্বাচন হওয়ায় সেটিই বড় আনন্দের বিষয়।
পিকআপচালক মামুনুর রশিদ জানান, ভোটের দিনে তাদের গাড়িও বন্ধ ছিল। তবে নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার পর থেকে চলাচলে কোনো সমস্যা হয়নি, যদিও রাস্তায় গাড়ির সংখ্যা এখনো কম। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন পর ভোট দিতে পেরে ভালো লেগেছে এবং ভোটকেন্দ্রে কোনো ভয়ভীতি ছিল না।
উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে গত ১ ফেব্রুয়ারি সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ যানবাহন চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১০ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত পর্যন্ত (৭২ ঘণ্টা) মোটরসাইকেল চলাচল বন্ধ রাখা হয়।
এছাড়া ১১ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত পর্যন্ত (২৪ ঘণ্টা) ট্যাক্সিক্যাব, পিকআপ, মাইক্রোবাস ও ট্রাক চলাচলেও নিষেধাজ্ঞা ছিল।




