ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়পুরহাটের দু’টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে মোট চারজন প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে প্রকাশিত ফলাফল বিশ্লেষণে এ তথ্য জানা গেছে। দুই আসনে মোট আটজন প্রার্থী ভোটযুদ্ধে অংশ নেন।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা আল-মামুন মিয়া তার দপ্তরের হলরুমে বেসরকারিভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন।
জয়পুরহাট-১ (সদর ও পাঁচবিবি) আসনে মোট প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা ছিল ৩ লাখ ৪১ হাজার ৫৫৬। এখানে তিনজন প্রার্থী নির্ধারিত ভোটসংখ্যা অর্জন করতে না পারায় তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। তারা হলেন-বাসদ (মার্কসবাদী) প্রার্থী তৌফিকা দেওয়ান (কাঁচি প্রতীক)। তিনি পেয়েছেন ৬১৭ ভোট। বাসদ প্রার্থী অধ্যক্ষ ওয়াজেদ পারভেজ (মই প্রতীক)। তিনি পেয়েছেন ৫৭৮ ভোট ও স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেকুন নাহার ওরফে শিখা (ঘোড়া প্রতীক)। তিনি পেয়েছেন ১৩ হাজার ২৮৬ ভোট।
এই আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১ লাখ ৬৫ হাজার ১৯২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ফজলুর রহমান সাঈদ। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মাসুদ রানা প্রধান (ধানের শীষ) পেয়েছেন ১ লাখ ৫৫ হাজার ৩০৯ ভোট। এখানে ভোট পড়েছে ৭৩ দশমিক ২৫ শতাংশ।
জয়পুরহাট-২ (কালাই, ক্ষেতলাল ও আক্কেলপুর) আসনে মোট প্রদত্ত ভোট ছিল ২ লাখ ৫৮ হাজার ১৬০। এখানে এবি পার্টির প্রার্থী এস এ জাহিদ (ঈগল প্রতীক) পেয়েছেন ১ হাজার ৫৫৫ ভোট, যা প্রয়োজনীয় সীমার নিচে থাকায় তার জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
এই আসনে ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৫৮ হাজার ৬৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী আব্দুল বারী। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর এস এম রাশেদুল আলম সবুজ (দাঁড়িপাল্লা) পেয়েছেন ৯২ হাজার ৫১৭ ভোট। এখানে ভোটের হার ছিল ৭৩ দশমিক ৪৩ শতাংশ।
নির্বাচন কমিশনের বিধি অনুযায়ী কোনো প্রার্থী সংশ্লিষ্ট আসনে মোট প্রদত্ত ভোটের এক-অষ্টমাংশ (১২.৫ শতাংশ) ভোট না পেলে তার জামানত বাজেয়াপ্ত হয়।
ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, জয়পুরহাটের দুই আসনে প্রধান দুই দলের প্রার্থীদের মধ্যেই মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা সীমাবদ্ধ ছিল। অন্য প্রার্থীরা উল্লেখযোগ্য ভোট না পাওয়ায় চারজনের জামানত হারানোর ঘটনা ঘটেছে।





