২০০৭ সালে টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম আসর, সেসময়ে সদ্য ওয়ানডে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়াকে ৫ উইকেটে হারিয়ে দেয় শক্তিতে পিছিয়ে থাকা জিম্বাবুয়ে। ঠিক ১৮ বছর পর একই টুর্নামেন্টে অজিদের বিপক্ষে ব্যাটিং-বোলিংয়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে ২৩ রানে জিতেলেন সিকান্দার রাজারা।
এটি ছিল দুই দলের দুই ইনিংস মিলিয়ে যৌথ সর্বোচ্চ রান। দুই ইনিংস মিলিয়ে তাদের সংগ্রহ ছিল ৩১৫ রান। এরআগে ১৮ বছরে আগের সেই ম্যাচই তাদের ছিল ২৭৭ রানের রেকর্ডটি।
কলম্বোয়ের আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে শুক্রবার টসে জিতে জিম্বাবুয়েকে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানায় অস্ট্রেলিয়া। নির্ধারিত ২০ ওভারে কেবল ২ উইকেট হারিয়ে আফ্রিকার দেশটি সংগ্রহ করে ১৬৯ রান। জবাবে ১৯.৩ ওভারে সব কয়টি উইকেট হারিয়ে ১৪৯ রানে গুটিয়ে যায় অজিরা।
আগে নেমে ওপেনিং জুটিতে ব্রায়ান বেনেট এবং তাদিওয়ানাশে মরুমণি ৪৫ বলে ৬১ রান করেন। মরুমণি ২১ বলে ৩৫ রানে আউট হলে রায়ান বার্লের সাথে ৫১ বলে ৭০ রানের জুটি গড়েন বেনেট, যা টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে জিম্বাবুয়ের দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে সর্বোচ্চ। বার্ল ৩০ বলে ৩৫ রান করেন। বেনেট ৭ চারে ৫৬ বলে অপরজিত ৬৪ রান করেন। ১৩ বলে অপরাজিত ২৫ রান করেন সিকান্দার রাজা।
অজিদের হয়ে ১টি করে উইকেট নেনে মার্কাস স্টয়নিস এবং ক্যামেরন গ্রিন।
লক্ষ্য তাড়ায় নেমে হোঁচট খায় অস্ট্রেলিয়া, ২৯ রানেই হারায় ৪ উইকেট। জশ ইংলিশ ৮, ট্রেভিস হেড ১৭, এবং গ্রিন, টিম ডেভিড রানের খাতা খুলতে পারেননি। পরে অবশ্য গ্লেন মেক্সওয়েল এবং ম্যাট রেনশো ৫৯ বলে ৭৭ রানের একটি জুটি গড়েন, যাটি পঞ্চম উইকেটে অজিদের টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ রান জুটির রেকর্ড। মেক্সওয়েল ৩২ বলে ৩১ করেন। স্টয়নিস ৬, বেন দ্বারশুইস ৬, অ্যাডাম জাম্পা ২ এবং নাথান ইলিস করেন অপরাজিত ৭ রান। রেনশো একমাত্র ব্যাটার যিনি অজিদের টেনে নিয়ে যান, পরে অবশ্য ব্লেসিং মুজারাবানী বলে বার্লের হাতে ক্যাচ তুলে দেন তিনি, আর তাতেই জিম্বাবুয়ের হয়ে সর্বোচ্চ ৫৪টি ক্যাচ ধরার রেকর্ড গড়েন তিনি। ৫ চার ও ১ ছক্কায় ৪৪ বলে ৬৫ রান করেন এ ব্যাটার।
জিম্বাবুয়ের হয়ে ব্লেসিং মুজারাবানী ৪ ওভারে ১৭ রান খরচায় নেন ৪ উইএক্ত। ব্র্যাড ইভান্স ৩টি, ওয়েলিংটন মাসাকাদজা এবং বার্ল ১টি করে উইকেট নেনে।
অন্যদিকে হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটে এদিন জিম্বাবুয়ের উইকেটের পিছে ছিলেন না অভিজ্ঞ ব্রেন্ডন টেলরকে। বিশ্বকাপ আর কোন ম্যাচ খেলতে পারবেন না এ উইকেটরক্ষক। দীর্ঘ এক যুগ পর দলে ফেরা ৪০ বর্ষী টেলর ওমানের বিপক্ষে দৌড়াতে সমস্যা পরেন, পরবর্তীতে রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে ফিরে যান তিনি।
এ দিকে জমে গেছে ‘বি’ গ্রুপের ম্যাচ। দুই ম্যাচে ২ জয়ে ৪ পয়েন্টে নিয়ে শির্ষে স্বাগতিক শ্রীলঙ্কা। একই সমীকরণে দ্বিতীয় স্থানে আছে জিম্বাবুয়ে। দুই ম্যাচে ১ জয় ও ১ হারে তৃতীয় স্থানে আছে অস্ট্রেলিয়া। দুই ম্যাচে কোন জয় না পেয়ে বিনা পয়েন্টে চতুর্থ স্থানে আছে আয়ারল্যান্ড এবং টেবিলের তনালিনেতে আছে ওমান।




