বিশ্বকাপ না খেলা নিয়ে বিতর্কিত বক্তব্যে আবারও ইউটার্ন আসিফ নজরুলের | চ্যানেল আই অনলাইন

বিশ্বকাপ না খেলা নিয়ে বিতর্কিত বক্তব্যে আবারও ইউটার্ন আসিফ নজরুলের | চ্যানেল আই অনলাইন

এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ

বিসিসিআইয়ের নির্দেশে মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল স্কোয়াড থেকে বাদ দেয় কলকাতা নাইট রাইডার্স। ক্রিকেটাররা তখন সিলেটে বিপিএলে ব্যস্ত। সেসময় ফেসবুকে এক পোস্টে ভারত থেকে ভেন্যু সরানোর পরামর্শ দিয়ে আইসিসিকে চিঠি পাঠাতে বিসিবিকে বলেন ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। কিন্তু মঙ্গলবার তার দাবি ছিল, এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে ক্রিকেট বোর্ড ও ক্রিকেটাররা। বুধবার এসে আবারও ইউটার্ন নিলেন তিনি।

বিশ্বকাপ বয়কটের প্রায় তিন সপ্তাহ পর ইউটার্ন নিয়ে আসিফ নজরুল মঙ্গলবার সাংবাদিকদের বলেন, ‘কোন অনুশোচনা, প্রশ্নই আসে না। আমাদের কী সিদ্ধান্ত, সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা, ক্রিকেট বোর্ড। তারা নিজেরা স্যাক্রিফাইস করে দেশের ক্রিকেটের, ক্রিকেটারদের, দেশের মানুষের নিরাপত্তার জন্য, বাংলাদেশের মর্যাদার প্রশ্নে যে ভূমিকা রেখেছে, আমার মনে হয় যে একটা অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।’

এই বক্তব্যের একদিন পর আবারও নিজের অবস্থান পরিবর্তন করেছেন আসিফ নজরুল। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক পোস্টে নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন। পাঠকদের জন্য সেই বক্তব্য হুবহু তুলে ধরা হল-

‘গতকাল একটি অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সাথে আমার বিভিন্ন প্রসঙ্গে আলাপ হয়। এক পর্যায়ে আমাকে প্রশ্ন করা হয়, বিশ্বকাপে খেলার সিদ্ধান্ত নিয়ে কোন আক্ষেপ আছে কিনা। আমি বলেছি, আক্ষেপের প্রশ্নই আসে না। এরপর আমি যা বোঝাতে চেয়েছি, তা আমার কথার প্রেক্ষিত ও অন্তর্গত বার্তাকে উপলব্ধি না করে উপস্থাপিত হওয়ার কারণে কিছুটা বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে।’

‘আমি জানুয়ারি মাসের শুরু থেকে বিভিন্ন বক্তব্যে স্পষ্টভাবে জানাই যে, নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা বিবেচনা করে ভারতে বিশ্বকাপ না খেলাটা সরকারের সিদ্ধান্ত। আমি অবশ্যই এই বক্তব্যে অটল আছি। গতকাল বিশ্বকাপ বর্জনের সিদ্ধান্ত কার নেওয়া- এটি কোন আলোচ্য বিষয় ছিল না, এ-নিয়ে কোন প্রশ্নও করা হয়নি।’

‘গতকালের অনুষ্ঠানটি ছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড কর্তৃক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে খেলার মাঠের উন্নয়নের জন্য ২ কোটি টাকা চেক প্রদানের অনুষ্ঠান। ক্রিকেটের এরকম স্পর্শকাতর সময়ে আমি তাদের এই বদান্যতায় কিছুটা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ি। সেসময় সাংবাদিকরা যখন জিজ্ঞেস করেন, বিশ্বকাপ না খেলা নিয়ে কোন দুঃখ আছে কিনা, তখন আমার মনে হয়েছে, এখানে আমার বা সরকারের তো দুঃখের বিষয়টা মূল বিষয় নয়। মূল বিষয় হচ্ছে- ক্রিকেট বোর্ড ও খেলোয়াড়দের আত্মত্যাগ।’

‘বিশ্বকাপ না খেলার সিদ্ধান্ত অবশ্যই সরকার নিয়েছে, কিন্তু এটিও তো সত্যি যে, এই সিদ্ধান্ত ক্রিকেট বোর্ড ও খেলোয়াড়রা বিনা প্রতিবাদে মেনে নিয়েছে। আর্থিক ক্ষতি, না খেলার বঞ্চনা এবং আরো শাস্তির ভয় সত্ত্বেও তারা এটা মেনে নিয়েছে। এই হিসেবে দেশের মানুষের নিরাপত্তা ও দেশের মর্যাদার স্বার্থে বিশ্বকাপ বর্জনের সিদ্ধান্তের কৃতিত্বের মূল দাবিদার তারাই।’

‘সাংবাদিক সম্মেলনে অপ্রস্তুত আলাপে বিষয়টি ভালো করে না বুঝিয়ে বলতে পারার ব্যর্থতা এখানে স্বীকার করে নিচ্ছি। আবারো দৃঢ়ভাবে জানিয়ে দিচ্ছি, বিশ্বকাপে না খেলার সিদ্ধান্ত সরকার নিয়েছে। কিন্তু সরকারের এই সিদ্ধান্ত বোর্ড ও ক্রিকেটাররা মেনে নিয়েছে। না হলে এই সিদ্ধান্তে অটুট থাকাটা হয়তো এতোটা সহজ হতো না।’

Scroll to Top