
ঢাকা, ৯ ফেব্রুয়ারি – বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) কাছে ফার্নেস অয়েলভিত্তিক দেশীয় বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলোর বকেয়া পাওনার পরিমাণ আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে এসব কোম্পানির মোট পাওনা প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা, যা প্রতিষ্ঠানভেদে আট থেকে দশ মাস পর্যন্ত বকেয়া পড়ে আছে।
দীর্ঘদিন বিল না পাওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো তীব্র আর্থিক সংকটের মুখোমুখি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে আসন্ন রমজান মাসের আগেই মোট বকেয়ার অন্তত ৬০ শতাংশ পরিশোধের আহ্বান জানিয়েছেন বিদ্যুৎকেন্দ্রের মালিকরা। সোমবার দুপুরে রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরে বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ ইনডিপেনডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসারস অ্যাসোসিয়েশন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির সভাপতি ডেভিড হাসনাত, সাবেক সভাপতি ইমরান করিম, পরিচালক নাভিদুল হক ও ফয়সাল আহমেদ চৌধুরী। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, বকেয়া বিলের কারণে বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হারের ওঠানামা এবং ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদের চাপে কোম্পানিগুলো ইতোমধ্যে প্রায় আট হাজার কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতির শিকার হয়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠান দৈনন্দিন ব্যয় মেটাতে ও জ্বালানি আমদানির জন্য উচ্চ সুদে ঋণ নিতে বাধ্য হচ্ছে।
বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ে বিল পরিশোধে ব্যর্থ হলে কেন্দ্রগুলো বিদ্যুৎ সরবরাহ স্থগিত রাখার আইনগত অধিকার রাখে। তবে জাতীয় স্বার্থ বিবেচনায় দেশীয় কোম্পানিগুলো কখনোই পূর্ণমাত্রায় সরবরাহ বন্ধ করেনি। বিপুল বকেয়া থাকা সত্ত্বেও তারা ঋণ নিয়ে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ অব্যাহত রেখেছে। মালিকদের অভিযোগ, সংকটের কারণে উৎপাদন সীমিত করতে বাধ্য হলে জাতীয় লোড বণ্টন কেন্দ্রের মাধ্যমে বাস্তব চাহিদার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ চাহিদা দেখিয়ে ক্ষতিপূরণমূলক জরিমানার পরিমাণ বাড়ানো হচ্ছে। বিপিডিবির বকেয়া কম দেখাতে কাগজে কলমে এই জরিমানা আরোপ করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তারা। সংগঠনটির সভাপতি ডেভিড হাসনাত জানান, বকেয়া অর্থ না পেলে জ্বালানি তেল আমদানি করা সম্ভব হবে না, ফলে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো চালানো কঠিন হয়ে পড়বে। আগামী গ্রীষ্মে তাপমাত্রা বাড়ার সাথে সাথে বিদ্যুতের চাহিদা ১৮ হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যেতে পারে। এ সময় পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন নিশ্চিত করতে না পারলে লোডশেডিং এড়ানো যাবে না। তাই রমজান মাসের আগেই বকেয়ার ৬০ শতাংশ পরিশোধের ব্যবস্থা করার জোর দাবি জানান তিনি।
এস এম/ ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬





