জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, গুম, খুন, নির্যাতন, দুর্নীতি ও লুটপাটের সঙ্গে জড়িতদের বিচার নিশ্চিত করা হবে এবং দেশে বিচারহীনতার সংস্কৃতি উৎখাত করা হবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ উপলক্ষে রোববার সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, বিভিন্ন বাহিনীর ভেতরে লুকিয়ে থাকা গুম, খুন, নির্যাতন ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত সব অপরাধীকে শনাক্ত করা হবে। যথাযথ তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে প্রকৃত দায়ীদের শাস্তির আওতায় আনা হবে।
তিনি বলেন, দেশবাসী যদি এনসিপিকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেয়, তাহলে ফ্যাসিস্ট হাসিনার আমলে লুটপাট ও বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনতে সব ধরনের আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এ কাজে জড়িত ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে কোনো ধরনের দায়মুক্তি দেওয়া হবে না।
নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, খুনি হাসিনার দোসর, ব্যবসায়ী গোষ্ঠী, সুবিধাভোগী আমলা ও আত্মীয়-স্বজনদের আইন ও বিচারের আওতায় আনা হবে। ইতোমধ্যে শনাক্ত হওয়া বিদেশে পাচার করা অর্থের তথ্য কর বিভাগের কাছে হস্তান্তর করে জরিমানাসহ ট্যাক্স আরোপ করা হবে এবং দেশে থাকা তাদের সব সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হবে।
এ সময় তিনি বলেন, চিহ্নিত লুটপাটকারীদের জাতীয় শত্রু ঘোষণা করে তাদের সম্পদ একটি পাবলিক ট্রাস্টের অধীনে নিয়ে আসা হবে।
ভাষণে নাহিদ ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ কখনও আফগানিস্তান হবে না। এই বাংলাদেশ বাংলাদেশই থাকবে। পোশাকের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ স্বাধীনতা বজায় থাকবে। যারা হিজাব পরতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন তারা তা পরবেন, আবার যারা অন্য পোশাকে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন তারা নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী পোশাক পরিধান করবেন।
অর্থনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ব্যাংক ও উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ উদ্ধার এবং এর সঙ্গে জড়িতদের বিচার এনসিপির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। অন্তর্বর্তী সরকার উদ্যোগ নিলেও অবহেলার কারণে তা বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। জনগণ সুযোগ দিলে এই অর্থ উদ্ধার করা হবে।
তিনি আরও বলেন, বৈষম্যমূলক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে জুলাই বিপ্লব ছিল একটি গণবিদ্রোহ, যার লক্ষ্য ছিল পুরোনো বন্দোবস্ত ভেঙে ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র কাঠামো প্রতিষ্ঠা করা। কিন্তু পুরনো ব্যবস্থার সুবিধাভোগীরা আবারও দুর্নীতিগ্রস্ত ও বৈষম্যমূলক কাঠামো ফিরিয়ে আনতে নির্বাচনের মাঠে নেমেছে।
নাহিদ ইসলাম বলেন, এনসিপি ক্ষমতায় এলে একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনে কাজ করবে, যেখানে দুর্নীতি, দমন-পীড়ন ও লুটপাটের কোনো জায়গা থাকবে না।



