বিশ্বব্যাপী কলেরা টিকার সরবরাহ বৃদ্ধি, তিন বছর পর পুনরায় শুরু ভ্যাকসিন | চ্যানেল আই অনলাইন

বিশ্বব্যাপী কলেরা টিকার সরবরাহ বৃদ্ধি, তিন বছর পর পুনরায় শুরু ভ্যাকসিন | চ্যানেল আই অনলাইন

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও), গ্যাভি ও ইউনিসেফ আজ রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) ঘোষণা করেছে, বিশ্বব্যাপী কলেরা টিকার সরবরাহ এতদূর বাড়ানো হয়েছে যে, তিন বছরেরও বেশি সময়ের পরে জীবন রক্ষাকারী প্রতিরোধমূলক ভ্যাকসিনেশন পুনরায় শুরু করা সম্ভব হবে।

ইউনেসেফ এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

মোজাম্বিকই প্রথম দেশ যেখানে প্রতিরোধমূলক টিকাদান পুনরায় শুরু হয়েছে। ২০২২ সালে বিশ্বব্যাপী কলেরা সংক্রমণ বৃদ্ধির কারণে টিকার সরবরাহে ঘাটতি দেখা দেওয়ায় তখন টিকাদান কার্যক্রম স্থগিত হয়েছিল।

প্রতিরোধমূলক টিকাদান অভিযান কলেরার চলমান প্রাদুর্ভাব ও বন্যার পরিপ্রেক্ষিতে শুরু হয়েছে। বন্যায় প্রায় ৭ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং বহু মানুষ স্থানান্তরিত হয়েছে। বন্যার ফলে স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটে এবং পানীয় জলে কলেরা ও অন্যান্য জলজ সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়।

ডব্লিউএইচও-এর মহাপরিচালক ড. তেড্রস আধানোম গেব্রেয়াসুস বলেন, বিশ্বব্যাপী টিকার ঘাটতি আমাদের কলেরা প্রাদুর্ভাব প্রতিরোধের বদলে প্রতিক্রিয়াশীল করে তুলেছিল। এখন আমরা সেই চক্র ভাঙার জন্য আরও শক্ত অবস্থানে আছি। ইইউবায়টিক্স-এর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই, যারা এই মাপের জনসাধারণের টিকাদান কার্যক্রমের জন্য টিকা উৎপাদন করছে, এবং অন্যান্যদেরও এ ক্ষেত্রে কাজ করতে অনুরোধ করি। এই টিকাগুলো জীবন বাঁচাবে।

প্রতিরোধমূলক কার্যক্রমের জন্য প্রথম পর্যায়ে ২০ মিলিয়ন ডোজ টিকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩ দশমিক ৬ মিলিয়ন ডোজ মোজাম্বিকে সরবরাহ করা হয়েছে; ৬ দশমিক ১ মিলিয়ন ডোজ কঙ্গোর জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে; এবং ১০ দশমিক ৩ মিলিয়ন ডোজ বাংলাদেশে সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে।

বিশ্বব্যাপী সংস্থা, উৎপাদক ও অংশীদারদের দীর্ঘমেয়াদি প্রচেষ্টার ফলে ২০২২ সালের ৩৫ মিলিয়ন ডোজের তুলনায় ২০২৫ সালে ওরাল কলেরা টিকার বার্ষিক সরবরাহ প্রায় দ্বিগুণ হয়ে প্রায় ৭০ মিলিয়ন ডোজে পৌঁছেছে। এই ডোজগুলোকে অর্থায়ন করছে গ্যাভি এবং ক্রয় ও বিতরণ করছে ইউনিসেফ।

গ্যাভির সিইও ড. সানিয়া নিশতার বলেন, কলেরা সংক্রমণের দীর্ঘমেয়াদি বৃদ্ধি এবং টিকার অভাব আমাদের স্মরণ করিয়ে দিয়েছে যে টিকার টেকসই ও সুষ্ঠু সরবরাহ একটি বিশ্বজনীন কল্যাণ। আমরা আমাদের অংশীদার ও উৎপাদকদের বিশেষত ইইউবায়টিক্স কৃতজ্ঞতা জানাই, যারা এই প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম পুনরায় শুরু করা সম্ভব করেছে।

ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক ক্যাথরিন রাসেল বলেন, বছরগুলোর মধ্যে প্রথমবারের মতো টিকার এই বৃদ্ধি বড় কলেরা জরুরি পরিস্থিতি প্রতিরোধে সাহায্য করবে। প্রতিরোধমূলক টিকাদান শিশুদের রক্ষা করবে এবং সংক্রমণ ঠেকাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তবে এটি নিরাপদ পানি ও মৌলিক স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে সমন্বয়িতভাবে চলতে হবে।

বিশ্ব কলেরা নিয়ন্ত্রণ কর্মদলের নির্ধারিত বরাদ্দ মানদণ্ড অনুযায়ী মোজাম্বিক, কঙ্গো ও বাংলাদেশকে নির্বাচিত করা হয়েছে, যাতে টিকা সমানভাবে ও স্বচ্ছভাবে বিতরণ করা যায়।

বিশ্ব কলেরা নিয়ন্ত্রণ কর্মদলের স্টিয়ারিং কমিটির চেয়ার ড. ইলেশ জানি বলেন, এই সাফল্য দেখায় যে বিভিন্ন অংশীদারকে একত্রিত করে কলেরা প্রতিক্রিয়াকে আরও নির্ভরযোগ্য করা সম্ভব। প্রতিরোধমূলক টিকাদান সম্প্রদায়কে সুরক্ষা দেয়। তবে স্থায়ী অগ্রগতি অবকাঠামোতে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের ওপর নির্ভর করবে, যেখানে রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি অপরিহার্য।

ওরাল কলেরা টিকা (ওসিভি) নিরাপদ ও কার্যকর। ১ বছরের বেশি বয়সী ব্যক্তিদের জন্য এটি সুপারিশ করা হয়। এক ডোজ ৬ মাসের জন্য সংক্রমণ রোধে সাহায্য করে, দুই ডোজ প্রয়োগ করলে ৩ বছর পর্যন্ত সুরক্ষা দেয়।

বিশ্বব্যাপী কলেরা পরিস্থিতি এখনও উদ্বেগজনক। সংক্রমণ অস্বাস্থ্যকর খাদ্য ও পানির মাধ্যমে ছড়ায়, ডায়রিয়া ও জলশূন্যতার কারণ হয় এবং চিকিৎসা বঞ্চিত হলে মৃত্যুর ঝুঁকি থাকে।

ডব্লিউএইচও-এর তথ্য অনুযায়ী গত বছরে ৩৩টি দেশ থেকে ৬ লাখের বেশি কলেরা বা তীব্র জলজাত ডায়রিয়ার ঘটনা এবং প্রায় ৭ হাজার ৬০০ মৃত্যু রিপোর্ট করা হয়েছে। তবে প্রকৃত সংখ্যা অনেক বেশি হতে পারে। ২০২১ সাল থেকে বিশ্বব্যাপী কলেরা সংক্রমণ বার্ষিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যদিও ২০২৫ সালে কিছুটা হ্রাস দেখা গেছে।

বিশ্বব্যাপী টিকা সরবরাহ বাড়লেও কলেরা প্রতিরোধের দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন, রোগ পর্যবেক্ষণ, দ্রুত চিকিৎসা এবং সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণের সঙ্গে একত্রিতভাবে সম্ভব।

Scroll to Top