অনেক প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, কিন্তু নির্ভয়ে কেউ কথা বলতে পারছে না

অনেক প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, কিন্তু নির্ভয়ে কেউ কথা বলতে পারছে না

রাষ্ট্রবিজ্ঞানী রওনক জাহান বলেন, ‘সমাজে দীর্ঘ বছর ধরেই বিভাজন ছিল। ২০২৪ সালের আগস্টের পর ভেবেছিলাম এ বিভাজন কমবে এবং খোলামনে বিতর্ক করে সহাবস্থানে যেতে পারবে মানুষ। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকার এ ব্যাপারে এগোতে পারেনি।’ তিনি বলেন, আগে সরকার বা সংস্থার পক্ষ থেকে মানুষকে দমিয়ে রাখা হয়েছিল। এখন মানুষ কথা বলছে, কিন্তু নানাভাবে তাদের ট্যাগিং করা হচ্ছে। অর্থাৎ নির্ভয়ে কেউ কথা বলতে পারছে না। প্রথম আলো, ডেইলি স্টার, উদীচী ও ছায়ানটে আক্রমণ হলো। অনেকে কথা বলেছে ঝুঁকি নিয়েই।

রওনক জাহান আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় কম। বিচার, সংস্কার ও নির্বাচন—এ তিন বড় কাজের কথা বলা হয়েছিল শুরুর দিকে। যেহেতু দেশে অনেক বিতর্কিত নির্বাচন হয়েছে, ফলে আগামী নির্বাচনটা যাতে ভালোভাবে করা যায়, সেদিকে তাঁরা মনোযোগ দিতে পারতেন। কিন্তু দেননি। বোঝাই যাচ্ছিল সংবিধান সংস্কারের মতো বিষয়ে সবাই একমত হবে না। এত বিশাল কর্মযজ্ঞে না গিয়ে কম কাজে নজর দিলে বিতর্ক কম হতো। এই রাষ্ট৶বিজ্ঞানী বলেন, ‘রাজনীতিবিদদের যতই গালাগালি করি না কেন, শেষ পর্যন্ত তাঁদের কাছেই আসতে হচ্ছে। এক–এগারোর সরকারও “ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি” করে রাজনীতিবিদদের হাতে দায়িত্ব দিয়ে গেল।’ রওনক জাহান বলেন, খারাপ রাজনীতিকে দূর করবে ভালো রাজনীতি—এ ব্যাপারে আশা করা যায়।

পিপিআরসির নির্বাহী পরিচালক হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, আগে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে ভয় দেখানো হতো। এখন তা দেখাচ্ছে সামাজিক শক্তি। আগে কথা বলতে না পারার একটা বিষয় ছিল। এখন সেলফ সেন্সরশিপ (স্ব–আরোপিত নিয়ন্ত্রণ) তৈরি হয়েছে। দুটোই খারাপ। তিনি বলেন, প্রশাসনে শৃঙ্খলা ফিরে আসেনি। অন্যদিকে বিকেন্দ্রীকরণের বদলে হয়েছে কেন্দ্রীভূত এবং তা দ্বিগুণ তেজি হয়েছে। এটা বেশ উদ্বেগের বিষয়।

Scroll to Top