২০১৯ সালে বিজেপিদলীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিল করার মাধ্যমে কাশ্মীরের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করে। এই আইনের মাধ্যমে কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল করা হয়, যে আইনের বলে বাইরের লোকদের সেখানে সরকারি চাকরি বা জমি কেনার অনুমতি ছিল না। মোদি সরকার এই আধা স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলটিকে জম্মু-কাশ্মীর এবং লাদাখ—এই দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বিভক্ত করে সরাসরি দিল্লির শাসনের অধীন নিয়ে আসে।
কাশ্মীরিদের মতে, এই অস্থির অঞ্চলে নাগরিক স্বাধীনতার ওপর ক্রমবর্ধমান বিধিনিষেধের তালিকায় ভিপিএন নিষেধাজ্ঞা হচ্ছে নতুন এক সংযোজন।
৩২ বছর বয়সী এক কাশ্মীরি সাংবাদিক আল-জাজিরাকে বলেন, তিনি কাজের জন্য প্রায়ই ভিপিএন ব্যবহার করতেন। কিন্তু এখন তিনি এটি করতে ভয় পাচ্ছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই সাংবাদিক বলেন, ‘সংঘাতময় অঞ্চলে সাংবাদিকদের নিরাপত্তার জন্য ভিপিএন ব্যবহার করা সাধারণ বিষয়, বিশেষ করে যখন অনুসন্ধানী প্রতিবেদন তৈরি করতে হয়। এখন সেই সুরক্ষার স্তরটি চলে গেল।’
শ্রীনগরের ২৪ বছর বয়সী ব্যবসায়ী মীর উমাইর বলেন, ভিপিএন নিষিদ্ধ হওয়ায় তিনি ‘বাইয়্যিনাহ টিভি’ দেখতে পারছেন না। এটি যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত একজন ইসলামি বক্তার অনলাইন প্ল্যাটফর্ম। উমাইর বলেন, ‘তাঁর বক্তব্যে রাজনৈতিক কিছু নেই, শুধু ধর্ম নিয়ে কথা বলেন। গত বছর ভারত-পাকিস্তান সামরিক উত্তেজনার সময় তাঁর চ্যানেলটি নিষিদ্ধ করা হয়। আমি ভিপিএন দিয়ে এটি দেখতাম।’
আহমদ নামের স্থানীয় এক আইনজীবী (ভয়ে পুরো নাম বলতে চাননি) আল-জাজিরাকে বলেন, এই ভিপিএন নিষেধাজ্ঞা বেআইনি হতে পারে। তিনি আরও বলেন, ‘এই আদেশের বৈধতা সন্দেহজনক। কারণ, এটি ভারতের আইটি নীতিমালার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ হতে হবে। ওই নীতিমালায় ঢালাওভাবে ভিপিএন নিষিদ্ধ করার কথা বলা নেই।’
