নাইমা চৌধুরীর জীবনের ১৭টি বছর কাটল পাবনা মানসিক হাসপাতালে, মারাও গেলেন সেখানেই

নাইমা চৌধুরীর জীবনের ১৭টি বছর কাটল পাবনা মানসিক হাসপাতালে, মারাও গেলেন সেখানেই

হাসপাতালের নথিতে নাইমার বাবার নাম উল্লেখ করা হয়েছে মজিবুল হক চৌধুরী। তাঁর এক ভাইয়ের নাম মো. হাবিব। প্রথম আলোর পক্ষ থেকেও এই ভাইয়ের মোবাইলে ফোন করা হলে নম্বরটি আর ব্যবহার করা হচ্ছে না বলে জানা গেল। ঢাকার কেরানীগঞ্জের আশ্রাফবাদের আহসানবাদ গ্রামের ঠিকানা দেওয়া।

পাবনা মানসিক হাসপাতালের স্টাফ নার্স মঞ্জুয়ারা খাতুন প্রায় ২২ বছর ধরে প্রতিষ্ঠানটিতে কর্মরত। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, নাইমা দেখতে খুব সুন্দর ছিলেন। চুল ছোট করে কেটে দেওয়া হয়েছিল। নাইমা হাসপাতালটিতে ভর্তির পর প্রথমে কেবিনে ছিলেন। শুরুর দিকে স্বজনেরা কেবিন ভাড়া দেওয়াসহ খোঁজখবর নিতেন। এরপর আস্তে আস্তে স্বজনেরা খোঁজ নেওয়া বাদ দেন। নাইমাকে ওয়ার্ডে রাখা হয়। তাঁর গায়ের ফরসা রং আস্তে আস্তে কালো হয়ে যায়। একদমই খাবার খেতে চাইতেন না বহু বছর ধরে। হিমোগ্লোবিন কমে যেত। সিজোফ্রেনিয়া তো ছিলই।

মঞ্জুয়ারা খাতুন বলেন, ‘যত দূর মনে পড়ছে, একবার তাঁকে বাড়িও পাঠানো হয়েছিল, তবে আবার এখানে রেখে যান স্বজনেরা। আমি অন্য ওয়ার্ডে দায়িত্ব পালন করলেও মাঝেমধ্যে নাইমা যে ওয়ার্ডে ছিলেন সেখানে যেতাম। খেতে না চাইলে বলতাম, না খেলে তো মরে যাবে। তখন নাইমা বলতেন, একদিন তো মরেই যাব। ওয়ার্ডের নার্সরা অনেক সময় মুখে তুলে খাইয়ে দিতেন।’

Scroll to Top