অস্ট্রেলিয়ায় ১৬ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তে বিপাকে পড়েছে বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো। বুধবার ১০ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হওয়া এ নিষেধাজ্ঞায় প্ল্যাটফর্মগুলোকে বাধ্যতামূলকভাবে বয়স যাচাই করে অপ্রাপ্তবয়স্কদের অ্যাকাউন্ট বন্ধ করতে হবে।
ফেসবুক অস্ট্রেলিয়ার সাবেক প্রধান স্টিফেন শিলার বলেন, সোশ্যাল মিডিয়া একসময় বড় সম্ভাবনা তৈরি করলেও এখন ক্ষতির দিকটাই বেশি স্পষ্ট। কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতির কারণে বিভিন্ন দেশ সীমিত ব্যবহারের উদ্যোগ নিচ্ছে, তবে অস্ট্রেলিয়ার পদক্ষেপকে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে কড়া হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো আইনটিকে শিশুদের নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ ও অধিকার-বিরোধী দাবি করে আপত্তি জানাচ্ছে। তাদের আশঙ্কা, এ উদ্যোগ অন্য দেশগুলোতেও একই ধরনের আইন করতে উৎসাহিত করতে পারে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন দেশ শিশুদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ আরোপের চেষ্টা করছে। ডেনমার্ক, নরওয়ে, সিঙ্গাপুর ও ব্রাজিলও অস্ট্রেলিয়ার মডেল অনুসরণে আগ্রহী।
এদিকে, মেটা, টিকটক, স্ন্যাপচ্যাটসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ‘টিন’ বা নিরাপদ সংস্করণ চালু করলেও সমালোচকদের মতে এগুলো কার্যকর নয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোম্পানিগুলো নিয়ন্ত্রণের বিরোধিতা করলেও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় ফাঁকফোকর রেখে আইনটিকে দুর্বল করায় তাদের স্বার্থ জড়িত।
তবে অস্ট্রেলিয়ার যোগাযোগমন্ত্রী আনিকা ওয়েলস বলেন, কোম্পানিগুলোর হাতে ১৫–২০ বছর সময় ছিল। এখন সরকারকে কঠোর পদক্ষেপ নিতেই হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের ভাষায়, এটি সোশ্যাল মিডিয়া নিয়ন্ত্রণে ‘সিটবেল্ট মুহূর্ত’। আইনটি নিখুঁত না হলেও পূর্বের অবস্থার চেয়ে ভালো বলেই মত তাদের।





