বাবরি মসজিদে অনুদান দিতে মুর্শিদাবাদে জনস্রোত, অর্থের পাহাড়

বাবরি মসজিদে অনুদান দিতে মুর্শিদাবাদে জনস্রোত, অর্থের পাহাড়

এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ

পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলায় প্রস্তাবিত বাবরি মসজিদ নির্মাণ প্রকল্পের জন্য অনুদানের স্রোত অব্যাহত রয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের স্থগিত বিধায়ক হুমায়ুন কবিরের উদ্যোগে স্থাপিত এই প্রকল্পে এখন পর্যন্ত নগদ ও ডিজিটাল মিলিয়ে প্রায় ১.৩ কোটি রুপি সংগ্রহ হয়েছে। শুধু কিউআর কোড পেমেন্টেই ৯৩ লাখ রুপি জমা পড়েছে বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমে সোমবার (৮ ডিসেম্বর) প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা যায়, রেজিনগরে হুমায়ুন কবিরের নিজ বাসভবনে আনা হয়েছে ১১টি ট্রাঙ্ক ভর্তি নগদ রুপি, যা সিসিটিভি ক্যামেরার কড়া নজরদারিতে গণনা করা হচ্ছে। অনুদান গণনার কাজে নিয়োজিত আছেন প্রায় ৩০ জন। পর্যবেক্ষকদের সামনে মেঝেতে রুপি ঢেলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা গণনা চলছে এবং ব্যবহার করা হচ্ছে কারেন্সি কাউন্টিং মেশিন।

আয়োজকদের দাবি, অনুদানগুলো গ্রহণ করা হচ্ছে ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল ইসলামিক ফাউন্ডেশন অব ইন্ডিয়া’-এর মাধ্যমে। ইসলামী পণ্ডিতদের উপস্থিতিতে ৭ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় গণনা শুরু হয় এবং গভীর রাত পর্যন্ত চলে। সাতটি ট্রাঙ্ক খোলার পর পর্যন্ত প্রায় ৩৭ লাখ রুপি গণনা সম্পন্ন হয়েছে।

হুমায়ুন কবির জানিয়েছেন, প্রকল্পটি শুরুর আগেই জনসাধারণের আগ্রহ বিস্ময়কর। দুই দিনের মধ্যে প্রায় ১৫ লাখ ইট দান এসেছে। তিনি আরও জানান, নির্মাণ ব্যয় ৩০০ কোটি রুপি পর্যন্ত হতে পারে। এক অজ্ঞাত দাতা একাই ৮০ কোটি রুপি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

এই প্রস্তাবিত মসজিদটির সঙ্গে অযোধ্যার ১৬শ শতকের মূল বাবরি মসজিদের কোনো সম্পর্ক নেই, যা ১৯৯২ সালে ধ্বংস করা হয়েছিল। নতুন কাঠামোটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে বাংলাদেশ–ভারত সীমান্তসংলগ্ন মুর্শিদাবাদ অঞ্চলে।

৬ ডিসেম্বর অযোধ্যার বাবরি মসজিদ ধ্বংসের বার্ষিকীতে হুমায়ুন কবির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। পরদিন তিনি নিজেই ইট বহন করে প্রতীকীভাবে নির্মাণকাজে অংশ নেন।

হুমায়ুন কবির দাবি করেন, বীরভূম ও মালদা জেলার বাসিন্দারাও অনুরূপ ‘বাবরি’ মসজিদ নির্মাণের অনুরোধ জানিয়েছেন; তিনি এসব প্রস্তাব বিবেচনা করবেন।

বিপুল পরিমাণ অনুদান রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কেউ কেউ সিসিটিভি–নিয়ন্ত্রিত স্বচ্ছ অনুদান গণনাকে স্বাগত জানালেও অন্যরা তহবিলের উৎস, বৈধতা ও হিসাবের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

মুর্শিদাবাদের এই প্রস্তাবিত মসজিদ এখন ধর্মীয়, সামাজিক এবং রাজনৈতিক স্তরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

Scroll to Top