কুনো ব্যাঙের ভবিষ্যদ্বাণী ও পাহাড়ে রাজনৈতিক সংকট

কুনো ব্যাঙের ভবিষ্যদ্বাণী ও পাহাড়ে রাজনৈতিক সংকট

জুলাইয়ের গণ–অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার চুক্তি বাস্তবায়ন কমিটিকে পুনরুজ্জীবিত করে এবং ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন ও অভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তুদের পুনর্বাসনবিষয়ক টাস্কফোর্সসহ গুরুত্বপূর্ণ সংস্থাগুলোর বৈঠক আয়োজনের উদ্যোগ নেয়। তবে বাঙালি সেটলার গোষ্ঠীগুলোর চাপের কারণে এসব বৈঠক বারবার স্থগিত করা হয়।

এদিকে মানবাধিকারকর্মী, শিক্ষাবিদ ও সুশীল সমাজের নেতাসহ ৩৩ জন বিশিষ্ট নাগরিক একটি বিবৃতির মাধ্যমে গত ১৯ অক্টোবর ২০২৫ নির্ধারিত ভূমি কমিশনের বৈঠক স্থগিত করায় তীব্র সমালোচনা করেন। তাঁরা বলেন, ২৪ বছর ধরে কমিশন বিদ্যমান থাকা সত্ত্বেও এবং ২৬ হাজারের বেশি অমীমাংসিত মামলা থাকা অবস্থায়ও প্রভাবশালী মহলের পৃষ্ঠপোষকতায় কমিশনের কার্যক্রম বারবার বাধাগ্রস্ত করা হচ্ছে। তারা ক্রমবর্ধমান সাম্প্রদায়িক হামলা, ভূমি বেদখল, আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ওপর সহিংসতা এবং ব্যাপক সেনা উপস্থিতি সত্ত্বেও নিরাপত্তাহীনতার বিভিন্ন ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁরা কমিশনের কাজে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে এমন ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে স্বাধীন তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান, যাতে পাহাড়ে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়। (ডেইলি স্টার, ২০ অক্টোবর ২০২৫)।

পার্বত্য চট্টগ্রামে বিচারহীনতা কোনো বিচ্ছিন্ন বাস্তবতা নয়। এটি রাষ্ট্রীয় কাঠামো, প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ ও রাজনৈতিক অনীহার সমন্বিত ফল। ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি সত্ত্বেও পাহাড়ে যে সহিংসতা, ভূমি দখলের সংস্কৃতি অব্যাহত রয়েছে, তা এ বিচারহীনতাকে একটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছে।

Scroll to Top