মামলা তদন্তের সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তারা প্রথম আলোকে জানান, আসামিরা সাবেক ওই সরকারি কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং এক পর্যায়ে তাঁর আস্থা অর্জন করেন। পরে তাঁরা গাজীপুরের শ্রীপুর এলাকায় ২২ বিঘা জমি কিনতে তাঁকে প্রলুব্ধ করেন। এরপর দলিলপত্র তৈরি, ভূমি অফিসে যোগাযোগ, রেজিস্ট্রি প্রস্তুত—এমন নানা অজুহাতে প্রতারিত ব্যক্তির কাছ থেকে চলতি বছরের ৬ এপ্রিল থেকে ২৫ মে পর্যন্ত বিভিন্ন ধাপে মোট ১ কোটি ৩০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন। এরপর তাঁরা ভুক্তভোগীকে ২৬ মে জমি রেজিস্ট্রি (নিবন্ধন) করে দেবে বলে জানান। কিন্তু ওই দিন সকাল থেকেই প্রতারকদের ফোন বন্ধ পাওয়ার পর ভুক্তভোগী নিশ্চিত হন যে তিনি প্রতারণার শিকার হয়েছেন।
আজ সন্ধ্যায় নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রতারণার শিকার সাবেক ওই অতিরিক্ত সচিব প্রথম আলোকে বলেন, ঢাকায় একটি ফ্ল্যাট বিক্রির বিজ্ঞাপন দিয়েছিলেন তিনি। এর সূত্রে সায়েদুল তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং তিনি জানান তাঁর ‘বস’ ফ্ল্যাটটি কিনবেন। সায়েদুল নিজেকে একটি ওষুধ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি বলে পরিচয় দেন। ফোন করে ও দেখা করে সায়েদুল তাঁর সঙ্গে আন্তরিকতা গড়ে তোলেন। সায়েদুল একদিন তাঁকে বলেন, শ্রীপুরের মাওনায় অনেক কম দামে ২২ বিঘা জমি বিক্রি হবে। দাম কম হওয়ায় তিনি (সায়েদুল) জমিটি বায়না করলেও ওই জমি কেনার তাঁর সামর্থ্য নেই। এখন জমিটি যদি সাবেক অতিরিক্ত সচিব কিনে আরেকজনের কাছে বিক্রি করেন, তাতে বিপুলভাবে (সাবেক অতিরিক্ত সচিব) লাভবান হবেন তিনি। এ জন্য সায়েদুল একজনকে একটি প্রতিষ্ঠানের মালিক সাজিয়ে তাঁর সঙ্গে ভুক্তভোগীর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। কিন্তু কথিত ওই ক্রেতা প্রতারক চক্রের সদস্য, তা তিনি বুঝতে পারেননি।



