নকল তথ্য তৈরির শক্তিশালী হাতিয়ার হয়ে উঠেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)। এটি যেমন মানুষের কাজ সহজ করছে, তেমনি ভুয়া তথ্য ছড়ানোর ক্ষমতাও বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
এআইয়ের মাধ্যমে মানুষের মুখ, কণ্ঠস্বর ও অভিব্যক্তি এমন নিখুঁতভাবে নকল করা যায় যে সত্য-মিথ্যার সীমারেখা প্রায় মুছে যায়। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ডিজিটাল সাক্ষরতার অভাব। উত্তেজনাপূর্ণ তথ্যের প্রতি মানুষের স্বাভাবিক আকর্ষণ, আবেগের বশবর্তী হওয়া, উৎস যাচাই করতে অনীহা—সব মিলিয়ে নকল খবর আরও দ্রুত ছড়ায়।
বিশেষ করে গ্রামের মানুষ, প্রবীণ ও কম শিক্ষিত জনগোষ্ঠী এসব প্রতারণার শিকার বেশি হলেও শহুরে তরুণেরাও নিরাপদ নয়। গবেষণা বলছে, বেশির ভাগ মানুষ খবর পড়ার আগে উৎস দেখে না, লিংক খোলে না, শুধু হেডলাইন দেখে সিদ্ধান্ত নেয়। সচেতনতার এই ঘাটতিই পরিস্থিতিকে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে।
একটি ভুল তথ্যের পরিণতি হতে পারে ভয়াবহ। অনেকে এটি তুচ্ছ ভাবলেও এর অভিঘাত ব্যক্তিগত, সামাজিক এবং মনস্তাত্ত্বিক ক্ষেত্রে দীর্ঘস্থায়ী। মানহানি, সাইবার বুলিং, ব্ল্যাকমেল এসব ঘটনার পেছনে নকল তথ্য বড় ভূমিকা রাখে। অনেক সময় একটি ভুয়া তথ্য মানুষকে বিপজ্জনক সিদ্ধান্ত নেওয়ার দিকেও ঠেলে দেয়।



