এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
কয়েকদিন আগে যুক্তরাষ্ট্র ক্রিকেট (ইউএসএসি) বোর্ডকে সাময়িকভাবে স্থগিত করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। পরবর্তীতে নিজেদের দেউলিয়া ঘোষণা করে তারা। এবার ইউএসএসি জানাল এটি তাদের ইতিহাসের অন্যতম কঠিন মুহূর্ত।
১ অক্টোবর বিবৃতিতে ইউএসএসিকে দেউলিয়া ঘোষণা করা হয়। এরপর আইসিসির স্থগিতাদেশকে আক্রমণাত্মক পদক্ষেপ বলে দাবি করে যুক্তরাষ্ট্র ক্রিকেট বোর্ড। জানায়, ভবিষ্যৎ সুরক্ষার জন্য আর্থিক পুনর্গঠন অপরিহার্য ছিল। বোর্ডটি দেউলিয়া ঘোষণার সিদ্ধান্ত আইসিসির কাছে বিস্ময়কর ছিল, কারণ এটি ২৩ সেপ্টেম্বর স্থগিতাদেশ ঘোষণার পরেই নেয়া হয়।
শুক্রবার বিবৃতিতে ইউএসএসি জানিয়েছে, ‘ইউএসএ ক্রিকেট স্থগিত হওয়া আমাদের ইতিহাসের অন্যতম কঠিন মুহূর্ত। এটি খেলোয়াড়, সদস্য, স্বেচ্ছাসেবক এবং সমর্থকদের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও হতাশা তৈরি করেছে। তবে এটি বিশৃঙ্খলার প্রতীক নয়, বরং এটি কঠিন কিন্তু প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্তের ফল, যা খেলা, সংস্থা এবং যুক্তরাষ্ট্রে ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ রক্ষার জন্য নেয়া হয়েছে।’
গত জুলাইয়ে বার্ষিক সাধারণ সভায় ইউএসএসিকে সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন এবং প্রশাসনিক সংস্কার করার জন্য তিন মাস সময় দিয়েছিল আইসিসি। সেই সময় বোর্ডকে সতর্ক করে বলা হয়েছিল সংস্কারের অগ্রগতির ওপর ভিত্তি করে আইসিসি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারে। তবে নির্ধারিত সময় পেরোলেও প্রত্যাশিত পরিবর্তন না আসায় স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
গত আগস্টে ইউএসএসি তাদের দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি বাতিল করে আমেরিকান ক্রিকেট এন্টারপ্রাইজের (এসিই) সঙ্গে, যা ছিল তাদের প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদার এবং মেজর লীগ ক্রিকেটের (এমএলসি) মালিক। চুক্তির পরেই আর্থিক পুনর্গঠনের পদক্ষেপ নেয়া হয়। ২০১৯ সালে ইউএসএসি এবং এসিই দুই পক্ষের মধ্যে ৫০ বছরের বাণিজ্যিক চুক্তি স্বাক্ষরের পর থেকেই তাদের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল।
সেই চুক্তির আওতায় এসিই প্রতি বছর অন্তত ১.২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয় জাতীয় দল ও সহায়ক স্টাফদের বেতনের জন্য। কিন্তু ইউএসএসির দাবি, সেই চুক্তিতে জাতীয় দলের বাণিজ্যিক অধিকারকে অবমূল্যায়ন করা হয়েছিল, যার প্রকৃত মূল্য বছরে ৫ মিলিয়ন ডলাররও বেশি।
ইউএসএসি জানায়, বছরের পর বছর চাপ ও বাণিজ্যিক অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ করেছে এসিই। তারা এসিইর মালিকানাধীন গোষ্ঠীর অত্যাধিক চাপের মধ্যে পরিচালিত হয়েছে বলে জানায় ইউএসএসি। যদিও কখনো সামঞ্জস্যপূর্ণ ও দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি তৈরি করা সম্ভব হয়নি। এসিই তাদের আর্থিক ও কার্যকরী লক্ষ্য পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে এবং সংস্থাটির শাসন, কার্যক্রম ও প্রোগ্রামের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছে।




