২০২৫ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার ভেনিজুয়েলার বিরোধীদলীয় নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদোকে প্রদান করার সিদ্ধান্তকে “অবিবেচনাপ্রসূত” বলে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী মুসলিম মানবাধিকার সংগঠন কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস (সিএআইআর)।
শুক্রবার (১০ অক্টোবর) ইসরায়েলের লিকুদ পার্টি এবং ইউরোপের মুসলিম-বিরোধী ফ্যাসিবাদের প্রতি মাচাদোর সমর্থনের অভিযোগ তুলে এই নিন্দা জানানো হয়।
এক বিবৃতিতে সিএআইআর বলেছে, “মিসেস মাচাদো ইসরায়েলের বর্ণবাদী লিকুদ পার্টির একজন সোচ্চার সমর্থক এবং এই বছরের শুরুতে তিনি ইউরোপীয় ফ্যাসিস্টদের একটি সম্মেলনে বক্তব্য রেখেছিলেন, যেখানে গির্ট ওয়াইল্ডার্স এবং মেরিন লে পেনের মতো ইসলামবিদ্বেষী নেতারা উপস্থিত ছিলেন।” সংগঠনটি আরও উল্লেখ করে যে, ওই সম্মেলনে ‘নতুন রিকনকুইস্টা’ বা স্পেন থেকে মুসলিম ও ইহুদিদের বিতাড়নের মতো ঐতিহাসিক জাতিগত নিধনের ঘটনার পুনঃপ্রতিষ্ঠার ডাক দেওয়া হয়েছিল।
সিএআইআর জোর দিয়ে বলেছে যে, নোবেল শান্তি পুরস্কার এমন ব্যক্তিদের দেওয়া উচিত “যারা সকল মানুষের জন্য ন্যায়বিচারের পক্ষে সাহসিকতার সাথে নৈতিক ধারাবাহিকতা প্রদর্শন করেছেন, তাদের নয় যারা নিজের দেশে গণতন্ত্রের দাবি করে বিদেশে বর্ণবাদ, ধর্মান্ধতা এবং ফ্যাসিবাদকে সমর্থন করে।”
সংগঠনটি মাচাদোকে লিকুদ পার্টি এবং ইউরোপের মুসলিম-বিরোধী ফ্যাসিবাদের প্রতি তার সমর্থন প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে। একইসাথে নোবেল কমিটিকে তাদের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করার অনুরোধ করে সিএআইআর বলেছে, এই সিদ্ধান্তের ফলে কমিটির নিজের খ্যাতিই ক্ষুণ্ণ হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “একজন মুসলিম-বিরোধী ধর্মান্ধ এবং ইউরোপীয় ফ্যাসিবাদের সমর্থকের নাম ড. মার্টিন লুথার কিং জুনিয়রের মতো সম্মানীয় নোবেল বিজয়ীদের পাশে উচ্চারিত হওয়ার কোনো স্থান নেই।”
সিএআইআর-এর মতে, নোবেল শান্তি পুরস্কার কমিটির উচিত ছিল এমন কাউকে সম্মানিত করা যিনি নৈতিক ধারাবাহিকতা দেখিয়েছেন, যেমন – “গাজায় গণহত্যার মতো এই সময়ের অপরাধের বিরোধিতা করতে গিয়ে যে সমস্ত ছাত্র, সাংবাদিক, কর্মী, এবং চিকিৎসা পেশাজীবীরা তাদের কর্মজীবন এমনকি জীবনকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছেন।”
নরওয়ের নোবেল কমিটি শুক্রবার ভেনিজুয়েলার গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য মারিয়া কোরিনা মাচাদোকে এই বছরের শান্তি পুরস্কার বিজয়ী হিসেবে ঘোষণা করে। তবে এই ঘোষণার পরই বিভিন্ন মহল থেকে মিশ্র প্রতিক্রিয়া আসতে শুরু করে, যার মধ্যে সিএআইআর-এর এই জোরালো প্রতিবাদ অন্যতম।





