এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
ইসরায়েল গাজা যুদ্ধবিরতি ও বন্দিমুক্তির পরিকল্পনা অনুমোদন করেছে বলে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।
সংবাদমাধ্যম বিবিসি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু একে ঐতিহাসিক অগ্রগতি বলে মন্তব্য করেছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ ও ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। কুশনার ও উইটকফ ইসরাইলি মন্ত্রিসভার বৈঠকেও উপস্থিত ছিলেন।
ট্রাম্প জানিয়েছেন, আগামী সোমবার বা মঙ্গলবারের মধ্যেই ইসরায়েলের কাছে থাকা ফিলিস্তিনি বন্দিদের মুক্তি দেওয়া হতে পারে।
চুক্তির প্রথম ধাপে যুদ্ধবিরতি ও বন্দিমুক্তির পাশাপাশি ইসরায়েল শত শত ফিলিস্তিনি বন্দিকে মুক্তি দেবে, গাজার কিছু অংশ থেকে সেনা প্রত্যাহার শুরু করবে এবং প্রতিদিন শত শত ট্রাক মানবিক সহায়তা গাজায় প্রবেশ করবে।
ইসরায়েলি সরকারের মুখপাত্র শোশ বেদরোসিয়ান জানিয়েছেন, যুদ্ধবিরতি ও বন্দিমুক্তির চুক্তি কার্যকর হলে সেনারা গাজা উপত্যকার একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলে সরে যাবে, যা বহুল প্রচারিত এক মানচিত্রে চিহ্নিত রয়েছে।
যদিও তিনি সংবাদ সম্মেলনে মানচিত্রটি দেখাননি, গত কয়েক সপ্তাহে হোয়াইট হাউস দুটি সংস্করণ প্রকাশ করেছে, যেখানে একটি হলুদ রেখা দিয়ে ইসরাইলি বাহিনীর প্রাথমিক প্রত্যাহার অবস্থান দেখানো হয়েছে।
বেদরোসিয়ান বলেন, যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপে ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) গাজার প্রায় ৫৩ শতাংশ এলাকা নিয়ন্ত্রণে রাখবে যা আগের মূল্যায়নের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
হোয়াইট হাউসের মানচিত্রে প্রথম ধাপের প্রত্যাহার ইসরায়েলি বাহিনীর গত এক মাসের গাজা সিটি পর্যন্ত অগ্রগতি কার্যত উল্টে দেবে। তবে পূর্বাঞ্চলীয় শুজাইয়া এলাকার বড় অংশ তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকবে।
এছাড়া, কেন্দ্রীয় গাজায় ২০২৪ সালের প্রথম দিকে তৈরি নেটজারিম করিডোর-এর প্রায় এক-তৃতীয়াংশ আইডিএফের নিয়ন্ত্রণে থাকবে। এটি উত্তর ও দক্ষিণ গাজাকে পৃথক করে জনসাধারণের চলাচল নিয়ন্ত্রণের জন্য নির্মিত হয়।
দক্ষিণ গাজায় প্রত্যাহার রেখা আগের সামরিক বিভাজন রেখার সঙ্গে মিলে গেছে রাফাহ ও খান ইউনুস অঞ্চলের মধ্যে মোরাগ করিডোর এবং খান ইউনুস শহরকে পূর্ব-পশ্চিমে বিভক্ত করা মাগিন ওজ অক্ষ।
এই সামরিক করিডোরগুলো বর্তমানে ইসরাইলি নিয়ন্ত্রণাধীন সীমারেখা নির্ধারণ করে, যা ইঙ্গিত দেয় যে দক্ষিণ গাজায় কোনো বড় ধরনের সেনা প্রত্যাহার হবে না।





