আবৃত্তি, সংগীত ও নৃত্যে সুরবিহারের শরৎ উৎসব | চ্যানেল আই অনলাইন

আবৃত্তি, সংগীত ও নৃত্যে সুরবিহারের শরৎ উৎসব | চ্যানেল আই অনলাইন

ঢাকার ধানমন্ডিতে অবস্থিত ‘সুরবিহার ক্রিয়েটিভ এন্ড পারফর্মিং আর্ট ইনস্টিটিউট’ সাফল্যের সঙ্গে তাদের পদচারণার ২১ বছর পূর্ণ করল। প্রতিষ্ঠানটির এই দীর্ঘ পথচলার আনন্দঘন মুহূর্তকে স্মরণীয় করে রাখতে আয়োজন করা হয় এক বিশেষ শরৎ উৎসবের।

শুক্রবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টায় বাংলা একাডেমির ভাষা শহীদ মুক্তমঞ্চে বসে আয়োজনের এই আসর। উৎসবের শিরোনাম ছিল— ‘বেঁধেছি কাশের গুচ্ছ’।

প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা ও বিশিষ্ট রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী ড. অণিমা রায়ের তত্ত্বাবধানে সাজানো এ আয়োজনে আবৃত্তি, গান ও নৃত্যের মনোমুগ্ধকর পরিবেশনায় মুখর হয়ে ওঠে মুক্তমঞ্চ।

আবৃত্তি, সংগীত ও নৃত্যে সুরবিহারের শরৎ উৎসব | চ্যানেল আই অনলাইনঅনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দেশবরেণ্য নজরুলসংগীত শিল্পী ফাতেমা তুজ জোহরা এবং গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ও প্রকৃতিবিদ মুকিত মজুমদার বাবু। এছাড়া অংশ নেয় সুরবিহারের শতাধিক শিল্পী ও শিক্ষার্থী।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে নজরুলসংগীত শিল্পী ফাতেমা তুজ জোহরা বলেন,“অণিমার যেকোনো উদ্যোগেই আমার থাকতে ভালো লাগে। এর আগেও সুরবিহারের আয়োজনে এসেছি। ছোট ছোট বাচ্চারা নিজেদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানছে, শিখছে—এটাই সবচেয়ে আনন্দের বিষয়। আমি মনে করি শিক্ষক হিসেবে অণিমা তার গড়া সুরবিহারের মাধ্যমে এক অনন্য দায়িত্ব পালন করে চলেছেন।”

প্রকৃতিবিদ মুকিত মজুমদার বাবু বলেন,
“ড. অণিমা রায়ের গড়া সুরবিহার প্রতি বছর যেভাবে প্রকৃতিকে সেলিব্রেট করে এবং শিশুদের মধ্যে প্রকৃতিপ্রেম ও সংস্কৃতিচেতনা জাগ্রত করে, তা ভীষণ মুগ্ধ করার মতো। এ ধরনের আয়োজন তরুণ প্রজন্মকে শেকড়ের সঙ্গে যুক্ত রাখে।”

নিজস্ব অভিমত প্রকাশ করে ড. অণিমা রায় বলেন,“আমাদের তরুণ প্রজন্মকে স্বকীয় সংস্কৃতিতে সমৃদ্ধ করার জন্য এ ধরনের আয়োজনের কোনো বিকল্প নেই। প্রতি বছর আমরা ভিন্ন ভিন্ন থিম নিয়ে উৎসব আয়োজন করি। এতে শিক্ষার্থীদের ভেতরে কৌতূহল ও অনুপ্রেরণার জায়গা তৈরি হয়, আর তারা আনন্দভরে এই দিনটির জন্য অপেক্ষা করে। বাংলাদেশের সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করতে আমাদের এই প্রয়াস অব্যাহত থাকবে।”

উল্লেখযোগ্য পরিবেশনা

অনুষ্ঠানের পরিবেশনাগুলো একে একে দর্শকদের মন জয় করে নেয়। শুরুতে মিনহাজুল হাসান ইমন পরিবেশন করেন রাগ আহির ভৈরবের শাস্ত্রীয় একক সংগীত।

এরপর ধারাবাহিকভাবে মঞ্চে স্থান পায়—

সমবেত গান ও নৃত্য: আমরা বেঁধেছি কাশের গুচ্ছ

সমবেত সংগীতে ডি.এল. রায়ের গান: আমরা মলয় বাতাসে। একক পরিবেশনা: প্রণীতা (শরতে আজ কোন অতিথি), নিলয় (হে ক্ষণিকের অতিথি)।

শিশুদের পরিবেশনা: মেঘের কোলে রোদ হেসেছে (গান ও নৃত্য), আলো আমার আলো (দ্বৈত পরিবেশনা)

দ্বৈত পরিবেশনা: অমিয় ও শ্রেয়া (তোমার মোহন রূপে), ইরফান ও প্রাপ্তি (অমল ধবল পালে লেগেছে), রায়ান ও প্রত্যাশা (বাজিলো কাহার বীনা), চিন্ময় ও মৌমিতা (আমি চিনিগো চিনি)

কবিতা আবৃত্তি: শিমুল পারভীন
যুগল পরিবেশনা: অন্তরা ও বাঁধন (দেখ দেখ শুকতারা), নাফিসা ও রায়ানা (যাব না যাব না যাব না ঘরে)।

সমবেত পরিবেশনা: শরৎ তোমার অরুণ আলোর অঞ্জলি। বিশেষ পরিবেশনা: অনিন্দিতা, তিথি, নয়ন ও রুদ্র।

সার্বিকভাবে অনুষ্ঠানটির সংগীত পরিচালনায় ছিলেন ড. অণিমা রায়।

উপস্থিত শিল্পী, শিক্ষার্থী ও দর্শকদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি পরিণত হয় এক প্রাণবন্ত সাংস্কৃতিক মহোৎসবে। অনুষ্ঠানে আগত অতিথিরা বলছেন,‘সুরবিহার’ এর ২১তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এই শরৎ উৎসব শুধুমাত্র সাংস্কৃতিক আয়োজনেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং এটি হয়ে উঠেছে তরুণ প্রজন্মকে সংস্কৃতিমনা ও প্রকৃতিপ্রেমী করে গড়ে তোলার এক অনন্য প্রচেষ্টা।

Scroll to Top