মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার স্বীকার করেছেন যে রাশিয়া থেকে তেল কেনার জন্য ভারতের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ঘটিয়েছে।
শুক্রবার (১২ সেপ্টেম্বর) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করে।
ট্রাম্প সাক্ষাৎকারে বলেন, “ভারত রাশিয়ার সবচেয়ে বড় ক্রেতা ছিল। আমি ভারতের ওপর ৫০% শুল্ক আরোপ করেছি। কারণ তারা রাশিয়া থেকে তেল কিনেছে। এটা করা সহজ কাজ নয়।”
ইউক্রেন আক্রমণের জন্য পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার আওতায় রাশিয়া থেকে তেল কেনার জন্য ট্রাম্প তার কিছু রপ্তানি পণ্যের উপর ৫০% পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করার পর ভারত ক্ষোভ জানিয়েছে এবং তাদের মার্কিন-বিরোধী মনোভাব বৃদ্ধি পেয়েছে।
ট্রাম্প “ফক্স অ্যান্ড ফ্রেন্ডস” প্রোগ্রামে বলেন, “এটা একটা বড় চুক্তি এবং এটি ভারতের সাথে ফাটল তৈরি করেছে।”
ট্রাম্পের বাণিজ্য যুদ্ধের কারণে মার্কিন-ভারত সম্পর্কে টানাপোড়েন শুরু হয়েছে। বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ ভারত তার বিশাল কৃষি ও দুগ্ধ খাত খোলার বিরোধিতা করার পর শুল্ক হার কমানোর আলোচনা ভেঙে পড়েছে। এই দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য প্রতি বছর ১৯০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি।
ট্রাম্প প্রথমে ভারত থেকে আমদানির উপর ২৫% অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করেন। তারপর ট্রাম্প বলেন, ২৭শে আগস্ট থেকে নয়াদিল্লির রাশিয়ান তেল ক্রয়ের শাস্তি হিসেবে তা দ্বিগুণ করে ৫০% করা হবে। কারণ ওয়াশিংটন ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান ঘটাতে কাজ করছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট মঙ্গলবার বলেন, তার প্রশাসন ভারতের সাথে বাণিজ্য বাধা মোকাবেলায় আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে এবং কয়েক সপ্তাহের কূটনৈতিক দ্বন্দ্বের পর তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সাথে কথা বলবেন।
ট্রাম্প কর্তৃক মনোনীত ভারতের রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর বলেছেন, তিনি আগামী সপ্তাহে ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী ওয়াশিংটন সফরের সময় এ সম্পর্কে অগ্রগতি আশা করছেন।
গোর ভারতের রাশিয়া সম্পর্ক নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা আমাদের বন্ধুদের ভিন্ন মানদণ্ডে রাখি।”
গোর ভারত সম্পর্কে আরও বলেন, “আমি বিষয়টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেব, যাতে তাদেরকে আমাদের দিকে টেনে আনা যায়।”
গোর জানান, ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে প্রধানমন্ত্রী মোদিকে আক্রমণ করেননি।
একই প্রোগ্রামে ট্রাম্প বলেন, রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিনের প্রতি তার ধৈর্য ফুরিয়ে আসছে। তবে ইউক্রেন যুদ্ধের জন্য নতুন নিষেধাজ্ঞার হুমকি দেওয়া থেকে তিনি বিরত ছিলেন।
মার্কিন রাষ্ট্রপতি বলেন, পুতিনের সাথে তার দীর্ঘদিনের ভালো সম্পর্ক ছিল। তবে যুদ্ধ শেষ করতে ব্যর্থতার জন্য তিনি হতাশা প্রকাশ করেছেন।
ট্রাম্প বলেন, শুল্কের পাশাপাশি ব্যাংক ও তেলের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করাও একটি বিকল্প, তবে ইউরোপীয় দেশগুলোরও এতে অংশগ্রহণ করা প্রয়োজন।




