জাতীয় পার্টি যে সুযোগের জন্য অপেক্ষা করতে পারে

জাতীয় পার্টি যে সুযোগের জন্য অপেক্ষা করতে পারে

জাতীয় পার্টির এই দুর্দশা দেখলে অনেকেই বলবেন, জাতীয় পার্টিও হাসিনার ফ্যাসিবাদের ভিকটিম। হাসিনা যদি এত বাড়াবাড়ি না করতেন, তাহলে এখনো ক্ষমতায় থাকতেন। জাতীয় পার্টিকেও এত টানাপোড়েনে পড়তে হতো না।

সব দেশে নির্বাচনের আগে আলোচনা হয়, কোন দল ক্ষমতায় আসবে? শেখ হাসিনার সময়, বাংলাদেশে আলোচনা হতো কে বিরোধী দলের নেতা হবেন? কারণ, যেকোনো নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসবে, সেটা ছিল অবধারিত আর রংপুরের কয়টা সিট পেয়ে জাতীয় পার্টি বিরোধী দল হবে—সেটাও ছিল নির্ধারিত।

২০১৪ সালে শেখ হাসিনা ডিবির লোক পাঠিয়ে এরশাদকে ধরে সিএমএইচে নিয়ে রোগী বানিয়ে রাখলেন। তাঁর স্ত্রী রওশন এরশাদ নিজেই জাতীয় পার্টির নির্বাচনে যাওয়ার ঘোষণা দিলেন। এরশাদকে মেনে নিতে হলো।

কিন্তু এরশাদ মারা যাওয়ার পর দ্বন্দ্বটা শুরু হলো, জাতীয় পার্টি থেকে কে হবেন বিরোধী দলের নেতা? রওশন এরশাদ যত দিন সুস্থ ছিলেন, বিরোধী দলের নেতার চেয়ার শেখ হাসিনা তাঁকেই দিয়েছিলেন। জাতীয় পার্টিতে এ নিয়ে টানাপোড়েন লেগেই ছিল। জি এম কাদের রাজনীতিতে ছিলেন কিছুটা আনাড়ি, সুতরাং রওশন এরশাদের মতো পাকা রাজনীতিবিদের সঙ্গে পেরে ওঠেননি। আনিসুল ইসলাম ও রুহুল আমিন হাওলাদার পাল্লার ওপর চোখ রাখতেন—কোন দিক ভারী। আনিসুল ইসলাম দুবার বিরোধী দল থেকে শেখ হাসিনার মন্ত্রী হয়ে যথেষ্ট কৌতুকের জন্ম দিয়েছিলেন।

Scroll to Top