ময়মনসিংহে ব্রহ্মপুত্র নদীর তীরে পুষ্প, বৃক্ষ, লতাগুল্মে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের বোটানিক্যাল গার্ডেন। গত ২৬ অক্টোবর ২০২৪ হেমন্তের এক বিকেলে গিয়েছিলাম সেখানে। ওখানকার পুকুরপাড়ের ছোট এক মাঠের ধারে দেখা পেলাম বনজামগাছের সারির। গাছে দেখা পেলাম ফুল ও কাঁচা-পাকা বনজামের। মনে পড়ে গেল ছোটবেলার কথা। বনজাম সাধারণত বসন্তে, গ্রীষ্মে পাকে। অথচ এখানে পাকা ফল পেলাম হেমন্তে। ফলের ওপরের কালো পাকা আবরণ খাওয়া যায়। খেয়ে দেখলাম কয়েকটা।
বনজাম চিরসবুজ উদ্ভিদ। এই গাছ ১.৫ থেকে ৪ মিটার পর্যন্ত উঁচু হতে পারে। এর শাখাগুলো সাধারণত লাল রঙের হয়। বাকল মসৃণ ও বাদামি। এর বৈজ্ঞানিক নাম Ardisia solanacea, এটি Myrsinaceae পরিবারের উদ্ভিদ। এই উদ্ভিদ ইংরেজিতে Shoebutton Ardisia নামে পরিচিত। ফলের আকৃতির জন্য পাতা অখণ্ড, ডিম্বাকার, উপবৃত্তাকার, চামড়ার মতো। পাতা ১০-২০ সেন্টিমিটার লম্বা হতে পারে। পাতা চকচকে এবং বড়। পাতার সামনের দিক তীক্ষ্ণèএবং নিচের দিক ক্রমশ সরু, দৈর্ঘ্যে প্রায় ১৪-২০ সেন্টিমিটার। পাতার বোঁটা খাটো, ১ সেন্টিমিটার পর্যন্ত লম্বা হতে পারে। পুষ্পবিন্যাস দূরবর্তী, কাক্ষিক, অনিয়ত, করিম্বের মতো রেসিম। মঞ্জরিদণ্ড ১০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত লম্বা হয়। ফুল গোলাপি বা গোলাপি-সাদা, তারকা আকৃতির এবং ১.৫ থেকে ২ সেন্টিমিটার প্রশস্ত। ফুলের বোঁটা ১.৫ সেন্টিমিটার লম্বা। বৃত্যংশ পাঁচটি, চামড়ার মতো, স্থায়ী। পাঁচটি পাপড়ি বিন্দু বিন্দু দাগবিশিষ্ট, ডিম্বাকার, চামড়ার মতো। পাপড়ি বাইরের দিকে ছড়ানো, যুক্ত হয়ে দলনল গঠন করে। ফুলে পুংকেশর পাঁচটি—গর্ভদণ্ডের চারপাশ ঘিরে অবস্থিত, বাইরের দিক উন্মুক্ত। গর্ভাশয় গোলাকার, অসংখ্য ডিম্বক, গর্ভদণ্ড খাড়া। বেরিজাতীয় ফল। এর ব্যাস ৭ থেকে ১৩ মিলিমিটার। ফল পরিপক্ব অবস্থায় কালো, রস গোলাপি রঙের।