গুলশানে সুমন হত্যা: র‌্যাবের বর্ণনায় জানা গেল ঘটনার নেপথ্যের কারণ

গুলশানে সুমন হত্যা: র‌্যাবের বর্ণনায় জানা গেল ঘটনার নেপথ্যের কারণ

এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ

মেহেদী ও ‘বড় সাঈদ’ মিলে একটি সন্ত্রাসী বাহিনী গঠন করে দীর্ঘদিন ধরে গুলশান ও বাড্ডা এলাকায় চাঁদাবাজি করে আসছিল। গত ৫ আগস্ট সরকারের পতনের পর মেহেদী পালিয়ে যায়, কিন্তু তার বাহিনীর সদস্য বড় সাঈদ গুলশান-বাড্ডা এলাকায় চাঁদাবাজি চালিয়ে যায়। কিন্তু সরকার পতনের পর অন্য একটি সন্ত্রাসী গ্রুপ রবিন গ্রুপের হয়ে ইন্টারনেট ব্যবসায়ী সুমন গুলশান বাড্ডা এলাকায় চাঁদাবাজি শুরু করে। গুলশান এলাকার বিভিন্ন মার্কেটের দোকানে চাঁদাবাজির বিষয় নিয়ে মেহেদী গ্রুপের সাথে রবিন গ্রুপের সুমনের বিরোধের সৃষ্টি হয়। সেই বিরোধের জেরেই মেহেদী গ্রুপের প্রধান মেহেদীর নির্দেশে সুমনকে হত্যা করার পরিকল্পনা করে সন্ত্রাসী বড় সাঈদ।

ওই রাতে গুলশান-১ পুলিশ প্লাজার সামনে সুমনকে লক্ষ্য করে করে কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়। সুমনের মৃত্যু নিশ্চিত করেই পালিয়ে যায় সন্ত্রাসীরা। এ ঘটনার মূলহোতা মো. ওয়াসির মাহমুদ সাঈদ ওরফে বড় সাঈদ (৫৯) ও কিলার মামুন ওরফে বেলাল (৪২)কে গ্রেপ্তারের পর এসব তথ্য জানিয়েছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)।

বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে গুলশান-১ পুলিশ প্লাজার উত্তর-পশ্চিম পার্শ্বে ডা. ফজলে রাব্বি পার্কের পূর্ব দিকের রাস্তার পাশের বেঞ্চে বসে বিশ্রাম করার সময় সুমনকে লক্ষ্য করে অজ্ঞাতনামা সন্ত্রাসীরা পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী এলোপাতাড়ি গুলি শুরু করে।

তখন জীবন রক্ষার্থে সুমন দৌড়ে গুলশান শুটিং ক্লাবের দিকে যাওয়ার সময় রোড ডিভাইডারের কাছে পড়ে যায়। গুলির শব্দে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলের দিকে এগিয়ে গেলে সন্ত্রাসীরা দৌড়ে পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থল থেকে সুমনকে উদ্ধার করে পুলিশ চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। সেখানে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পরদিন শুক্রবার রাতে নিহত সুমনের স্ত্রী মৌসুমী আক্তার গুলশান থানায় বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা (নং-৩২) করেন।

র‌্যাব-১ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ জাহিদুল করিম বলেন, চাঞ্চল্যকর ওই ঘটনায় র‌্যাব-১ রহস্য উদঘাটন এবং আসামিদের গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা নজরদারি শুরু করে। মঙ্গলবার (২৫ মার্চ) দুপুর আড়াইটার দিকে র‌্যাব-১ এর একটি দল র‌্যাব-৮ এর সহযোগিতায় ঘটনার মূলহোতা ওয়াসির মাহমুদ সাঈদ ওরফে বড় সাঈদকে পটুয়াখালী থানাধীন পটুয়াখালী চৌরাস্তা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে।

জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার বড় সাঈদ জানায়, মামুন ওরফে বেলালসহ আরও কয়েকজন হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশগ্রহণ করে। বড় সাঈদের দেওয়া তথ্যমতে মঙ্গলবার রাতেই মামুন ওরফে বেলালকে গাজীপুর জেলার টঙ্গী পূর্ব থানা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ঘটনার নেপথ্যের কারণ সম্পর্কে র‌্যাব-১ এর এ কর্মকর্তা বলেন, জনৈক মেহেদী বড় সাঈদের মাধ্যমে একটি সন্ত্রাসী বাহিনী গঠন করে বিগত কয়েক বছর যাবত গুলশান ও বাড্ডা এলাকায় চাঁদাবাজি করে আসছিল। গত ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর মেহেদী পালিয়ে যায়। মেহেদী পালিয়ে গিয়ে তার বাহিনীর সদস্য বড় সাঈদের মাধ্যমে গুলশান ও বাড্ডা এলাকার চাঁদা সংগ্রহ করে আসছিল। কিন্তু সরকার পতনের পর অন্য একটি সন্ত্রাসী গ্রুপ রবিন গ্রুপের হয়ে সুমন গুলশান বাড্ডা এলাকায় চাঁদাবাজি শুরু করে। গুলশান এলাকার বিভিন্ন মার্কেটের দোকানে চাঁদাবাজির বিষয় নিয়ে মেহেদী গ্রুপের সঙ্গে রবিন গ্রুপের সুমনের বিরোধের সৃষ্টি হয়। ওই বিরোধের কারণে মেহেদী গ্রুপের প্রধান মেহেদীর নির্দেশে সুমনকে হত্যা করার পরিকল্পনা করে সাঈদ।

ঘটনার ৮/১০ দিন আগে সাঈদ সুমনকে হত্যার উদ্দেশে বিল্লাল ও মামুনের নেতৃত্বে মেহেদী গ্রুপের ৪/৫ জন সন্ত্রাসী দিয়ে একটি কিলার গ্রুপ গঠন করে। মেহেদী গ্রুপের সদস্যরা প্রতিদিন সুমনের ওপর নজর রাখে। ঘটনার দিন ২০ মার্চ সন্ধ্যার সময় মেহেদী গ্রুপের একটি কিলার গ্রুপ সাঈদের বাসায় মিটিং করে এবং তার বাসা থেকে অস্ত্র নিয়ে গুলশান এলাকায় যায়। ওই এলাকায় গিয়ে সুমনকে গোপনে খুঁজতে থাকে। ওইদিন রাত সাড়ে ৯টার দিকে সুমনকে গুলশান-১ পুলিশ প্লাজার কাছে ডাক্তার ফজলে রাব্বি পার্কের সামনে বসা অবস্থায় দেখতে পেয়ে গুলি করে। সুমন গুলি খেয়ে দৌড়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এসময় পেছন থেকে সন্ত্রাসীরা তাকে আরও কয়েকটি গুলি করে। সুমনের মৃত্যু নিশ্চিত করে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়।

লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ জাহিদুল করিম বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত বাকি পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার এবং ঘটনায় ব্যবহৃত অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের জন্য অভিযান অব্যাহত আছে।

Scroll to Top