শহর জুড়ে যেন উৎসবের আমেজ। আকাশে রমজানের চাঁদ, আর দোকানপাটে ঈদের প্রস্তুতি। কিন্তু একটা জায়গায় সময় যেন দৌড়ে চলছে-রাজশাহীর দর্জিপাড়া! এখানে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত শুধু সেলাই মেশিনের শব্দ, কাপড় কাটার টুকটাক আওয়াজ আর সূচ-সুতোর খেলা। ঈদের নতুন পোশাক তৈরিতে ব্যস্ত দর্জিদের দম ফেলার ফুরসত নেই।
আরও কয়েক দিন পরই ঈদুল ফিতর। নতুন পোশাকে ঈদের আনন্দকে রঙিন করে তুলতে আগেভাগেই দর্জিদের দোকানে ভিড় করেছিলেন ক্রেতারা। কিন্তু এখন? কাজের চাপ এতটাই বেড়েছে যে বেশিরভাগ দোকান নতুন অর্ডার নেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। তবুও, বিশেষ অনুরোধ বা বাড়তি খরচ দিলে কিছু কিছু জায়গায় কাজ করিয়ে নেওয়ার সুযোগ মিলছে। তবে সাধারণ ক্রেতারা পড়েছেন বিপাকে।
রাজশাহীর সাহেববাজার, কাপড় পট্টি, শিরোইল, লক্ষ্মীপুরসহ বিভিন্ন এলাকার দর্জিরা এখন দিন-রাত এক করে কাজ করছেন। কারও হাতে নেই বিশ্রাম, চোখে নেই ঘুম। তাঁরা বলছেন, ১৪ রমজানের পর থেকেই চাপ কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। একদিকে ঈদের ক্রেতাদের চাপ, অন্যদিকে নাটোর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, বগুড়া থেকেও ব্যবসায়ীরা পোশাক বানাতে আসায় ব্যস্ততা আরও বেড়েছে।
দর্জিরা জানান, এবার থ্রি-পিস সেলাইয়ে ৭০০ টাকা, শার্ট ৬০০ টাকা, প্যান্ট ৬০০ টাকা, পাঞ্জাবি ৭৫০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। বিশেষ ডিজাইন বা এমব্রয়ডারির জন্য আরও খরচ যোগ হচ্ছে। তবে ক্রেতাদের অভিযোগ, দর্জিরা অর্ডার বন্ধের কথা বলে বেশি দামে কাজ নিচ্ছেন।

দর্জি মো. মামুন বলেন, এখন তো শুধু সেলাই করছি, খাওয়ার সময় পর্যন্ত নেই। ঈদের আগে ঘুমানোরও সময় পাই না! তবে যখন দেখি আমাদের বানানো পোশাক পরে সবাই খুশি হয়, তখন সব কষ্ট ভুলে যাই।
শিরোইল এলাকার বাসিন্দা সুমন আলী বলেন, মেয়ের জন্য জামা বানাতে এসে শুনি, অর্ডার নিচ্ছে না! পরে এক পরিচিত দর্জির কাছে কাজ দিলাম, কিন্তু তিনটি থ্রি-পিস বানাতে আড়াই হাজার টাকা লাগল। গত বছর দেড় হাজারের মধ্যেই হয়ে যেত।
লক্ষ্মীপুরের নাসরিন বেগম বলেন, এবার অর্ডার নেওয়া নাকি অনেক আগেই বন্ধ! বাধ্য হয়ে বেশি টাকা দিয়ে কাজ দিতে হলো।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চাঁদ রাত পর্যন্ত চলবে এই ব্যস্ততা। তারপরই মিলবে একটু স্বস্তি। তবে দর্জিদের হাতের নিখুঁত কারুকাজে ফুটে উঠবে হাজারো মানুষের ঈদের আনন্দ। নতুন পোশাকের উচ্ছ্বাসে ক্লান্তি ভুলে হাসবেন তারা, আর তাদের সেলাই করা সুতোয় বোনা হবে ঈদের রঙিন মুহূর্ত!