সেবার রাশা আর আহমেদ বেঁচে গিয়েছিল। আরও কয়েক মাস যুদ্ধ, ভয় এবং ক্ষুধায় বেঁচে থাকবে বলেই হয়তো। রাশা তার উইলে বলেছিল, কেউ যেন তার বড় ভাই আহমেদকে বকা না দেয়। আহমেদ যেমন দুষ্টু, তেমন মেধাবী। রাশা জানত না যে ওর ভাই আরেক বিছানায় শুয়ে মৃত্যুর জন্য অপেক্ষা করছে। তাই সে তার ২৫ শেকেলের উত্তরাধিকারী করে গেছে ভাইকে।
রাশা আর আহমেদের জন্ম এক বছরের ব্যবধানে। তাদের বড় হওয়ার কথা ছিল একসঙ্গে। হয়তো মায়ের মতো পিএইচডি করত। কিন্তু ওরা ভয়, ক্ষুধা আর আতঙ্কের জীবন একসঙ্গে কাটিয়ে মারাও গেছে একসঙ্গে।
হয়তো এই জগতের সমান্তরাল অন্য কোনো জগৎ আছে। সে জগতে হয়তো শিশুদের হত্যা করা ক্ষমার অযোগ্য যুদ্ধাপরাধ। আমাদের পৃথিবীতে রাশা আর আহমেদকে হত্যা করলে কেউ শাস্তি দেয় না।
ইসরায়েল ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে গাজায় ১৬ হাজার ৭০০–এর বেশি শিশুকে হত্যা করেছে। অন্তত ১৭ হাজার শিশু তাদের মা–বাবাকে হারিয়েছে।
আমি এই লেখায় শুধু একটি ঘটনার কথা বললাম। এই ঘটনার বেদনাকে যদি ১৬ হাজার ৭০০ গুণ বাড়াতে পারতাম, তবু কি পাঠককে বোঝানো যেত গাজার কষ্টের আর দুঃখের তীব্রতা?



