আওয়ামী গডফাদার শাহরিয়ারের হাত থেকে রেহাই পাননি দলের নেতা–কর্মীরাও 

আওয়ামী গডফাদার শাহরিয়ারের হাত থেকে রেহাই পাননি দলের নেতা–কর্মীরাও 

আওয়ামী লীগে দাপট

শাহরিয়ার আলম রাজশাহীতে আওয়ামী লীগ বা সহযোগী সংগঠনের কোনো পদে ছিলেন না। ২০০৮ সালে এমপি হওয়ার পর জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য হন। পরে ২০১৪ সালে বাঘা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হন। এর পর থেকে সব পর্যায়ে নিজের লোককে কমিটিতে আনতে থাকেন। গত বছরের ২৭ মে চারঘাট ও বাঘা উপজেলার স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্মেলনের কথা জানতেনই না বাঘা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সভাপতি ইকুল হাসনাত মাহমুদসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকেরা। তাঁদের অনুপস্থিতিতে কমিটি ঘোষণা করা হয়। ইকুল হাসনাত মাহমুদের মুঠোফোন বন্ধ থাকায় কথা বলা যায়নি। তবে সে সময় তিনি বলেছিলেন, তাঁকে সম্মেলনের ব্যাপারে কিছুই জানানো হয়নি। তাই তিনি ইউনিয়ন কমিটির কাউকেই জানাতে পারেননি। তাঁদের বাদ দিয়েই সম্মেলন করা হয়েছে। প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশেই এমনটা হয়েছে।

নির্যাতন-মামলা

শাহরিয়ার আলমের সময়ে আধিপত্য বিস্তারসহ নানা বিষয় নিয়ে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের মধ্যে কোন্দল দেখা দেয়। এর জের ধরে কয়েক বছরে দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে তিনি মামলা করিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব মামলা চলাকালে নেতা-কর্মীরা গ্রেপ্তারের ভয়ে বাড়ি ছেড়ে থাকতেন। এসব মামলার আসামিপক্ষের আইনজীবী ছিলেন জিয়াউর রহমান। তিনি বলেন, ২০২২, ২০২৩ ও ২০২৪ সালে নিজ দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে অন্তত ১০টি মামলা করিয়েছিলেন শাহরিয়ার আলম। এসব মামলায় অনেকেই জেল খেটেছেন। অনেকেই নানাভাবে হয়রানির শিকার হয়েছেন।

সবচেয়ে বেশি নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বাঘা পৌরসভার মেয়র আক্কাছ আলী। একসময় শাহরিয়ার আলম আক্কাছ আলীকে সঙ্গে রাখলেও পরে তাঁদের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেয়। ২০১২ সালে বিভিন্ন অভিযোগে শাহরিয়ার আলমের লোকজনের মামলায় তিনি জেল খাটেন। তাঁর বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে একাধিক। তিনি জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য। দলিল লেখক সমিতির চাঁদাবাজির জেরে গত ২২ জুন বাঘায় আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষ হয়। এতে বাঘা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আশরাফুল ইসলাম নিহত যান। ওই ঘটনায় শাহরিয়ার আলমের অনুসারী উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম সম্পাদক শাহিনুর রহমান আক্কাছ আলী, জেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মেরাজুল ইসলামসহ ৪৫ জনকে আসামি করে মামলা করেন। পরে তাঁদের গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়। 

১৫ বছরের বেশির ভাগ সময় বাঘা ও চারঘাটে প্রকাশ্যে কর্মসূচি করতে পারেনি বিএনপি। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘হত্যার হুমকির’ অভিযোগে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সাঈদের (চাঁদ) বিরুদ্ধে ২৬টির মতো মামলা হয়। তিনিই বিভিন্ন সভায় শাহরিয়ারের বিরুদ্ধে কথা বলতেন। এ কারণে আবু সাঈদের প্রতি ক্ষুব্ধ ছিলেন শাহরিয়ার আলম। আবু সাঈদ বলেন, তিনি সাত বছরের মতো জেল খেটেছেন। এ সময়ে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে প্রায় ৮০টি। তিনিসহ এলাকার লোকজনকে শান্তিতে থাকতে দেননি। অথচ শাহরিয়ার এখানকার কেউ ছিল না।

Scroll to Top